নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ফাতেমা বেগম নামে এক নারীকে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ‘ক্লুলেস’ এই হত্যা মামলাটির প্রধান আসামি ইউনুস আলীকে (২৫) সিলেটের জৈন্তাপুর বাংলাদেশ ভারতের সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরই মধ্যে তিনি হত্যার বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন। 

আজ শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সাইনবোর্ড একাকায় অবস্থিত পিবিআইয়ের নারায়ণগঞ্জ অফিসের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।  

পুলিশ সুপার জানান, নিহত ফাতেমা বেগম ও ইউনুস আলী আড়াইহাজারের গোপালদী মানিকনগর এলাকায় পাশপাশি বাড়িতে বসবাস করতেন। মালয়েশিয়া ফেরত ইউনুস আলীর সাথে খুব অল্প সময়েই তালাকপ্রাপ্ত ফাতেমা বেগম প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই সম্পর্ক খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কেও গড়ায়। এরই মধ্যে ইউনুস আলীর পরিবার নতুন বাড়ি করে এক কিলোমিটার দূরে চলে যায়। পুরাতন বাড়ি ফাঁকা পেয়ে অবাধে দেখা-সাক্ষাত ও শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন দুজনে। পাঁচ মাসের ব্যবধানে ফাতেমা বেগম অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েন। এরপর তিনি বিয়ের জন্য ইউনুসকে চাপ দিতে থাকেন।

এক পর্যায়ে ইউনুস আলীর পরিবারও বিষয়টি জানার তাকে অনত্র বিয়ে করার জন্য করে খোঁজা শুরু করে। ইউনুস আলী কোনভাবেই যাতে ওই ফাতেমার সাথে সম্পর্ক রাখতে না পারে সেজন্য নজর রাখছিল তার পরিবার। একদিকে বাবা মায়ের চাপ, অন্যদিকে বিয়ের জন্য ফাতেমার চাপ থেকে বাঁচতেই ইউনুস আলী ফাতেমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

গত ১০ আগস্ট ইউনুস আলী পরিকল্পনা অনুযায়ী ফাতেমা বেগমকে মোবাইল ফোনে বাসা থেকে ডেকে আনেন। সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে সন্ধ্যায় ইউনুসের নতুন বাড়ির পেছনের জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে শরীরিক সর্ম্পকও করেন। পরে ফাতেমাকে সেখানেই রেখে তিনি বাসায় চলে যান। রাত ১০টার দিকে ইউনুসের পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে তিনি আবার ওই জঙ্গলে আসেন। সেখানে আরো একবার শারীরিক সর্ম্পক করেন। পরে শ্বাসরুদ্ধ করে ফাতেমাকে হত্যা করে মরদেহ জনৈক ডালিমের নির্মাণাধীন ঘরের বালু ভর্তি ভিটার নিচে কোদাল দিয়ে গর্ত করে বালু চাপা দিয়ে চলে যান। দুদিন পর ইউনুস আলী ডালিমের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেন, তারা কেন ঘরের মেঝে পাকা করছেন না। দ্রুত মেঝে পাকা করার জন্য তিনি তাগাদা দেন, প্রয়োজনে টাকা-পয়সাও দেয়ার প্রস্তাব দেন। এরই মধ্যে দুর্গন্ধ ছড়ালে বাড়ির লোকজন ঘরের বালু সরিয়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় গোপাদলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মুক্তার হোসেন বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ২৯ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইতে আসে। মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে আসার মাত্র ৪৩ দিনের মাথায় রহস্য উন্মোচন ও আসামিকে গ্রেফতার করা হল। 

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যববহার করে পিবিআই আসামি শনাক্ত করে সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকা থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় আসামি ইউনুস আলীকে গ্রেফতার করে। 

তিনি বলেন, হত্যার আলামত নষ্ট করার জন্য আসামি নিহত ফাতেমা বেগমের মোবাইল সেট, জাতীয় পরিচয়পত্র, গলার হার, কানের দুল, হাত ব্যাগ, উরন গোপালদী বাজারের গাজীপুরা ব্রিজ থেকে হাড়দোয়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন। 

এই হত্যাকান্ডের সাথে অন্য কেউ জড়িত আছেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।