কক্সবাজারের টেকনাফে আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈলের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ২৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিনদিন সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে। এ সময় মামলার ১-১৫ নম্বর সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেবেন। মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসকে দিয়ে শুরু হয়েছে বিচার কার্যক্রম। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মামলার ১৫ জন আসামিকেও আদালতে হাজির করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের (পিপি) ফরিদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় সাক্ষী ৮৩ জন। সেখান থেকে তিনদিনে ১৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া হবে। বাকিদের ধাপে ধাপে নেয়া হবে।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের নয় সদস্য। তারা হলেন বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, কনস্টেবল রুবেল শর্মা, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুল করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া ও কনস্টেবল সাগর দেব নাথ। অন্য আসামিরা হলেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্য এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজিব ও মো. আব্দুল্লাহ এবং টেকনাফের বাহারছড়ার মারিষবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পুলিশের করা মামলার সাক্ষী নুরুল আমিন, মো. নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এর আগে আসামিদের তিন দফায় ১২-১৫ দিন রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল।

এদিকে সিনহা হত্যা মামলার শীর্ষ দুই আসামি প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলীর বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন নির্যাতিতরা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে আদালত চত্বরে ‘অসহায় নির্যাতিত সমাজ ও লাভ বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের জেলা সভাপতি নাজনীন সরওয়ার কাবেরী ও আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সমন্বয়ক মহসীন শেখসহ নির্যাতিত অর্ধশতাধিক পরিবারের দুই শতাধিক লোক অংশ নেয়।