স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শ্রমিক অধিকার ও পরিবেশ সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।

আজ সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ইআরডি ভবনে আয়োজিত একটি সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ইআরডির সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্প (এসএসজিপি) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে অনুমোদিত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্রাটেজি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্থানীয় শিল্পের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ভ্যাটের আওতায় আনা ও অভিন্ন করহার চালু করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান কর খাতে খরচ কমানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, আগামী মার্চের মধ্যে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো কার্যক্রম চালু হবে। শিগগিরই পুরো আয়কর প্রদানের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করা হবে।

সেমিনারে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, ঢাকা চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজিব এইচ চৌধুরী ও বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট কবির আহমেদ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএসজিপি প্রকল্পের কম্পোনেন্ট ম্যানেজার ড. মোস্তফা আবিদ খান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমদানি ও রফতানির খরচ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বেশি। কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করলে রফতানি ৭.৪ শতাংশ বাড়তে পারে। শুল্ক সংস্কারের মাধ্যমে স্থানীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ৫ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্রাটেজি বাস্তবায়নে ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি-২০২৩ ও ন্যাশনাল লজিস্টিকস নীতির কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

সেমিনারে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানান। তারা মনে করেন, অতিরিক্ত সময় পেলে প্রস্তুতি আরো ভালো হবে।

সেমিনারে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।