নৌপরিবহন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, পাহাড়ের সমস্যাকে সরকারের সমাধান করা উচিত। আমি আশ্চর্য হয়ে গেছি যে কেন এরকম হলো। এ এলাকা সব সময় শান্ত ছিল, সম্প্রীতি ছিল। ১৯৯১ সালে পাহাড় যখন অশান্ত ছিল। আমি এখানে সবার সঙ্গে, সবার বাড়িতে আসা-যাওয়া করেছি। এবং আমি কখনো মনে করি নাই যে উনারা আলাদা, আমি আলাদা।
তিনি বলেন, সে সময় আমি সামরিক কর্মকর্তা ছিলাম। আমার এখনো অনেক স্মৃতি মনে আছে। আমি অনেক ক্যাং এ (বৌদ্ধ বিহার) গিয়েছি। আপনাদের বড় ভান্তে (বৌদ্ধ ভিক্ষু) যখন মারা গিয়েছেন, তখন এসেছিলাম। তো হঠাৎ করে এরকম হওয়াতে আমিও আশ্চর্য হয়ে গিয়েছি।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা সদরের বান্দরবান বৌদ্ধ অনাথালয় পরিদর্শন শেষে পাহাড়ে একাধিক সশস্ত্র গ্রুপের তাণ্ডবে অশান্ত পরিস্থিতির বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, সবাই মিলে বসে এটার মূলে যেতে হবে যে কেন এটা এরকম হলো। সে মূল থেকে এটার পরিসমাপ্তি ঘটাতে হবে বা একটা আলোচনার মাধ্যমে এটা শান্তভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দরকার যারা পাহাড় সম্পর্কে ভালো করে জানেন। যারা এখানের লোকগুলোর সঙ্গে পরিচিত এবং তাদের আচার-আচরণ, সংস্কুতি যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয় সেরকম একটা পরিবেশ তৈরি করা। যারা বিপথে গিয়েছে আমি তাদেরকে অনুরোধ করব যে এতে কোনো লাভ হয়নি, হবে না। আসুন সবাই মিলে আমরা আলোচনা করি, আপনাদের সমস্যা থাকলে আমরা সমাধান করব৷
ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ দেশ শুধু আমার না। এ দেশ আপনাদেরও। আপনারা এখানে যুগ যুগ ধরে বসবাস করছেন। আপনাদের সংস্কৃতি, আচার-ব্যবহার এগুলো সবাই সম্মান করে আসছে। এ এলাকাতেই কোনো প্রটেকশন ছাড়াই আমি অনেক জায়গায় ঘুরে বেরিয়েছি। এই এলাকাতেই (বান্দরবান) যা হচ্ছে, এতে আমি অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছি। এটা কোনো সমস্যা না। ছোটখাট বিষয়, এটা সমাধান করা যায়।
এর আগে পরিদর্শন শেষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, এ বৌদ্ধ বিহার অনাথালয় প্রতিষ্ঠাকালে বোমাং সার্কেলের ১৫ তম রাজা অংশৈপ্রু চৌধুরী বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। অনাথালয়টি বর্তমানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের রেজিস্ট্রিভুক্ত এবং এ প্রতিষ্ঠানটি অনেক বড় হয়েছে। একই সঙ্গে বৌদ্ধ অনাথালয়টিকে সহযোগিতা করার ঘোষণা দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অনুবিভাগের যুগ্মসচিব আ স ম আশরাফুল ইসলাম, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম রাকিব ইবনে রেজওয়ান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, ডা. মং উষাথোয়াই প্রমুখ।










