নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বেশকিছু কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্তরায় হতে পারে। তবে বিদ্যমান ত্রুটিগুলো দ্রুত সমাধান করলে এ কমিশনের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গতকাল বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক করতে ইসিতে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম। বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া। বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান মির্জা ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ভোটারদের কাছে পৌঁছানো পোস্টাল ব্যালটগুলো ত্রুটিপূর্ণ। নির্দিষ্ট একটি দলকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যেই এই ব্যালট তৈরি করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে প্রতীকসংবলিত সঠিক ব্যালট পেপার সরবরাহ করতে হবে। ঢাকা মহানগরী এলাকার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় একটি রাজনৈতিক দল তাদের মনোনীত-সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচনে বিজয়ী করার অনৈতিক কূটকৌশল অবলম্বন করে ব্যাপক হারে দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন পূর্বক ঢাকা মহানগর এলাকার ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মোট কত সংখ্যক ভোটার, কোন কোন এলাকা থেকে ঢাকা মহানগরীর কোন কোন সংসদীয় নির্বাচনী এলাকায় কী কারণে স্থানান্তর হয়েছেন, সেই ভোটারদের বিস্তারিত বিবরণ জরুরি ভিত্তিতে আমাদের সরবরাহ করার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি।’
এটি ছাড়াও আরো কিছু অভিযোগ জানিয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব বলেন, ‘জামায়াতের নির্বাচনী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিকাশ নম্বর, এনআইডির কপি সংগ্রহ করছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ, ক্রিমিন্যাল অফেন্স। এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে আমরা আহ্বান জানিয়েছি। বিএনপি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে বিশ্বাসী, এ কারণে আমাদের চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত সফর বাতিল করেছেন। অথচ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রধানসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি ভঙ্গ করে দলীয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ বিষয়েও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার, ওসিসহ অন্যান্য কর্মকর্তা—একটি দলের পক্ষে কেউ কেউ কাজ করছেন বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক তাদের প্রত্যাহার করার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়েছে।’










