পর্যটন জেলা কক্সবাজারে বন্যায় ক্ষতি বাড়ছে ও মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। এলাকায় পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বন্যা পরবর্তী ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে জেলার নিম্নাঞ্চল। পানি নেমে না যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে ৭ হাজার ৩ শত ৫৭ হেক্টর ফসলি জমি।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গ্বোসামী বলছেন- প্লাবিত এলাকার ১৬৭ টি স্লুইস খোলা রয়েছে। পানি নেমে যাচ্ছে। জলাবদ্ধতা ২/৩ দিনের মধ্যেই কমলে ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে।
জানা যায়, বন্যার পর পানি জমে থাকায় হুমকিতে পড়েছে চিংড়ি ঘের, পানের বরজ, লবণ মাঠ, বীজতলাসহ ফসলি জমির চাষাবাদ। বৃষ্টিপাত, জোয়ারের পানি ও পাহাড়ি ঢলে এখনও পানিবন্দি হয়ে আছেন ২ শতাধিক গ্রামের মানুষ। এতে রয়েছে কয়েক হাজার একর কৃষি জমি। প্লাবিত এলাকায় তলিয়ে গেছে চিংড়ি ঘের, পানের বরজ, আউস, আমন ধান, শাকসবজি, ধানের বীজতলা ও জমানো লবণ। পাশাপাশি ২৮ ও ২৯ জুলাই অতি বর্ষণে পাহাড় ধস, পাহাড়ী ঢলে ও পানিতে ভেসে গিয়ে ২২ জনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বন্যা পরবর্তী এখন যোগ হয়েছে নিম্নাঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ফলে ক্ষতি বাড়ছে বিভিন্ন সেক্টরে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ এখলাছ উদ্দিন জানিয়েছেন, এবারের বৃষ্টিপাতে কক্সবাজারের ৩৬ হাজার ৬ শত ৬৪ জন কৃষকের ৭ হাজার ৩ শত ৫৭ হেক্টর ফসলি জমিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ কোটি ৫ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্থ ফসলের মধ্যে রয়েছে আউশ, আমন ধানের বীচতলা, শাকসবজি ও পান। এ ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
এদিকে ভারি বৃষ্টিপাতে কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, উখিয়া ও টেকনাফে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টায় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। কৃষকরা জানান, জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভয়াবহ হুমকিতে পড়বে এ অঞ্চলের চাষাবাদ। প্রভাব পড়বে সামাজিক জীবনেও। তাই দ্রুত সমাধান চান তারা।









