সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় খোলপেটুয়া নদীর দয়ারঘাট এলাকায় চারটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়। গতকাল দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় চার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদিন প্রবল জোয়ারের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলার জেলেখালী, দয়ারঘাট ও উপজেলা সদরের দক্ষিণপাড়া এলাকা প্লাবিত হয়। এতে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মৎস্য ঘের ও শতাধিক বাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
আশাশুনি সদরের দক্ষিণপাড়া গ্রামের শিক্ষক অমল কুমার, রনজিত কুমার বৈদ্য ও বিধান কুমার বৈদ্য জানান, বেলা ২টার আকস্মিক খোলপেটুয়া নদীর প্রবল স্রোতে তাদের বাড়ির কাছের বেড়িবাঁধের রিং ভেঙে আশাশুনি সদরের দক্ষিণপাড়া, দয়ারঘাট ও জেলেখালী গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে তিন-চার হাজার মানুষ। এছাড়া কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মৎস্য ঘের ভেসে গেছে।
আশাশুনি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স ম সেলিম রেজা মিলন জানান, খোলপেটুয়া নদীর দয়ারঘাট এলাকার বেড়িবাঁধটি দীর্ঘদিন ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। গতকাল দুপুরে প্রবল জোয়ারের তোড়ে তা ভেঙে জেলেখালী, দয়ারঘাট ও উপজেলা সদরের দক্ষিণপাড়া এলাকা প্লাবিত হয়। এতে কমপক্ষে শতাধিক বাড়ি এবং অর্ধশতাধিক মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়েছে। বিকালে ভাটা শুরু হলে স্থানীয়দের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া আশপাশের সাধারণ মানুষও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য কাজ করছে। তবে নদীতে প্রবল ঢেউ থাকায় সংস্কারকাজ করতে একটু সমস্যা হচ্ছে।










