বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘একটা রাজনৈতিক দল কয়েকটি দল নিয়ে জোট বানিয়েছে। তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। যারা আগে গণভোট চাচ্ছে, তারা এর মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে।’
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে সংসদ নির্বাচনের আগে নভেম্বরেই গণভোটের দাবি তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক আটটি দল। এ প্রসঙ্গে গতকাল বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোভাযাত্রা-পূর্ববর্তী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এ সমাবেশ ও শোভাযাত্রার আয়োজন করে।
ফখরুল বলেন, ‘কেন নির্বাচনের আগে গণভোট হতে হবে? আমরা বলেছি যে আমরা গণভোট মানছি, সেই গণভোট নির্বাচনের দিনই হতে হবে। কারণ দুটো ভোট করতে গেলে অনেক টাকা খরচ হবে। তাছাড়া মূল যে নির্বাচন জাতীয় নির্বাচন, সেটা ক্ষুণ্ন হয়ে যাবে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে হবে। তা না হলে দেশের জনগণ সেটি মানবে না।’
তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের। অন্তর্বর্তী সরকার, যাকে আমরা সম্পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি, তারা আজ নিজেরাই একটা অবস্থা তৈরি করছে, যেন নির্বাচন ব্যাহত হয়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৭ নভেম্বরের চেতনা গণতন্ত্রের চেতনা, আমাদের বিএনপির জন্ম হয়েছে সংস্কারের মধ্য দিয়ে। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংস্কারের সূচনা করেছেন। আর আজ তারেক রহমান নতুন সংস্কারের ৩১ দফা দিয়ে জাতিকে সামনে এগিয়ে দেয়ার একটা ম্যাগনা কার্টা দিয়েছেন। আমরা এ নির্বাচনে অংশ নেব। ইনশা আল্লাহ এ নির্বাচনে জয়যুক্ত হয়ে আমরা একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
গণভোট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং কয়েকটি দলের দাবির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা দেখলাম হঠাৎ করে উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্য সংবাদ সম্মেলন করে বললেন, তাদের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে যে সাতদিন সময় দেয়া হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে। তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। তাহলে এতদিন ধরে, সাত মাস ধরে যে জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করার জন্য ঐকমত্য কমিশন বসলেন, সব সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে আলাপ-আলোচনা করলেন, সেটা কীভাবে হলো? বিপুল টাকা খরচ করে আপনারা যেটা করলেন, সেটায় রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো সমাধান হয়নি।’
সমাবেশ শেষে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। সেটি কাকরাইল থেকে মালিবাগ, মগবাজার, বাংলামোটর হয়ে কারওয়ান বাজার মোড়ে এসে শেষ হয়।
বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ও উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক বক্তব্য দেন।









