যদিও রাজধানীর অনেক পাড়া-মহল্লা ও সড়কে বর্জ্যের স্তূপ দেখা গেছে। গতকাল বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর পলাশী, লালবাগ, ধানমন্ডি, সায়েন্স ল্যাব, কারওয়ান বাজার, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, জুরাইন, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির বর্জ্য পুরোপুরি অপসারণ হয়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অনেক এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কর্মীরা এসে আংশিক বর্জ্য নিয়ে বাকিগুলো ফেলে গেছেন।
জুরাইনের বাসিন্দা নাজমুল হক বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের কর্মীরা সন্ধ্যার পরপরই এসে বর্জ্যের একাংশ অপসারণ করেছে। কিন্তু রাত ১০টা বেজে গেছে, এখন আর বর্জ্য নিতে কেউ আসেনি।’ গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা নয়ন বলেন, ‘করপোরেশন থেকে এখনো বর্জ্য নিতে কেউ আসেনি আমাদের এলাকায়।’ রাজধানীর আরো অনেক এলাকা সরজমিনে পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, সড়কে কোরবানির বর্জ্য পড়ে রয়েছে।
ধানমন্ডি, মতিঝিল, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গরুর মলমূত্রের স্তূপ দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্জ্য পরিবহনের সময় গাড়ি থেকে এসব মলমূত্র সড়কে পড়েছে। এসব বর্জ্যের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন অনেকে।
গতকাল সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ঘোষণা দেন, সরকারের নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার আগেই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হবে। ঈদুল আজহার দিন দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে বেলা ২টা থেকে কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার মধ্যে এসব বর্জ্য অপসারণ করে ভাগাড়ে নেয়া হবে। ঢাকা মহানগরীর বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘দুই সিটিতেই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমাদের হাতে রাত ২টা পর্যন্ত সময় রয়েছে। আবহাওয়া ভালো আছে। আমরা বিশ্বাস করি, নির্ধারিত সময়ের আগেই দুই সিটির পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ করতে পারব।’
তিনি জানান, আগামী দুইদিনও অনেকে কোরবানি দেবেন। ফলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এখনো অনেক এলাকায় কোরবানি চলছে এবং সিটি করপোরেশনের কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে বর্জ্য সংগ্রহ করছেন। এসব বর্জ্য আমিনবাজার ভাগাড়ে নেয়া হচ্ছে।
এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, সরকার ঘোষিত ১২ ঘণ্টার আগেই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ‘ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চলবে। আমরা নির্ধারিত অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করছি।’
গতকাল দুপুরে কলাবাগান এসটিএস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে কোরবানির বর্জ্য পরিবহন শুরু করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রথম দিনের সব বর্জ্য রাত সাড়ে ৯টা অর্থাৎ ৮ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। ডিএসসিসি জানিয়েছে, ঈদুল আজহার তিনদিনে দক্ষিণ সিটিতে প্রায় ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য উৎপন্ন হতে পারে। এ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১৩ হাজার ৪৫৩ কর্মী কাজ করছে। পাশাপাশি ৭৫টি ওয়ার্ডে ব্লিচিং পাউডার, স্যাভলন ও বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।










