বিগত ১৫ বছরে সংঘটিত গুম-খুনের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শেখ হাসিনাকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, ‘এখন প্রমাণ হয়েছে, হাসিনাই এসব হত্যা ও গুমের জন্য দায়ী। তাকে অবশ্যই এ দেশে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি পেতে হবে।’

গুম হওয়া ভিকটিমদের স্মরণে গতকাল রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে মানববন্ধন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ কর্মসূচির আয়োজন করে বিগত সরকারের আমলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুম হওয়া ভিকটিম পরিবারের প্লাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার শাসনামলে যারা গুম হয়েছেন, যতদিন না তারা ন্যায়বিচার পান তাদের পরিবারের পাশে থাকবে বিএনপি। গুমের মতো ভয়াবহ অপরাধ আর হতে পারে না। এটি মানবতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী অপরাধ এবং এ ধরনের অপরাধের শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। আমার দলের পক্ষ থেকে আমরা এ আন্দোলনে ছিলাম, আছি এবং গুম হওয়া ভিকটিম পরিবারের পাশে থাকব, যতদিন না আমরা অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে পারি।’

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও এ ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদের নাম প্রকাশের দাবি জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘অপরাধী যারা-ই হোক না কেন, যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদের প্রকাশ্যে আনতেই হবে। যেসব শিশু তাদের বাবাকে হারিয়েছে, বোনরা ভাইকে হারিয়েছে, মায়েরা সন্তান হারিয়েছে—তাদের সম্পর্কিত পূর্ণ তথ্য জনগণের সামনে আনতেই হবে।’

গুম হওয়া পরিবারের প্রতি সাহস না হারানোর আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আপনাদের কারো মন খারাপ করার কিছু নেই। জনগণের আন্দোলন কখনো ব্যর্থ হয় না। তরুণ প্রজন্ম ও শিশুরা তাদের বাবা ও ভাইদের জন্য ন্যায়বিচার দেখতে পাবে।’

ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি নির্বাচিত সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি দৃঢ়ভাবে নির্বাচন চায়। এ ভিকটিমদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও ত্বরান্বিত করার জন্য আমরা নির্বাচন চাই।’