দেশের সংকটগুলো সমাধানে অন্তর্বর্তী সরকারকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ পলিসি ডায়ালগের বক্তারা। তারা আরো বলেন, ‘এ সরকারের হাতে সংস্কার করা না হলে পরবর্তী সময়ে যারাই আসবে আবারো পরিবারতন্ত্রের মধ্যেই বাংলাদেশ পড়ে যাবে। এছাড়া প্রশাসনে সংকটও তীব্র আকারে রয়েছে, যা মানুষের রক্ষক না হয়ে ভক্ষক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা,  অর্থনীতি ও গণমাধ্যমসহ সবকিছু ঢেলে সাজাতে হবে। যেখানে প্রাধান্য দিতে হবে তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও দাবিগুলোয়। একই সঙ্গে ইসলামকেও প্রাধান্য দিতে হবে এ সংবিধান সংস্কারে।’ 

গতকাল বাংলাদেশ পলিসি ডায়ালগ কর্তৃক ‘ন্যায়ভিত্তিক-নেতৃত্বশীল রাষ্ট্রের রূপরেখা: সংস্কার নাকি নতুন সংবিধান’ শিরোনামে সিরডাপে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠক ও মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সাবেক বিচারক মাসদার হোসেন, আইনজীবী মহসিন রশিদ এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব আবদুল খায়েরসহ অন্যান্য ব্যক্তি। 

অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে হাসিনা হওয়ার আয়োজন রয়েছে। এ সংবিধান সামন্তবাদী। যেখানে বহুত্ববাদ অনুপস্থিত ও পুরুষতান্ত্রিক। এখানে অঘোষিত জরুরি অবস্থা রয়েছে। ফলে আয়নাঘরের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব দিক বিবেচনায় আমাদের একটি ইনক্লুসিভ সংবিধান লাগবে। একাত্তরকে মাথায় রেখে নব্বইয়ের আন্দোলন ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। অন্যথায় এ সংবিধান বেহাত হয়ে যায় কিনা সে আশঙ্কায় রয়েছি।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগের মধ্যে সবসময়ই চেক অ্যান্ড ব্যালান্স থাকতে হবে। এই তিনটি অর্গানের মধ্যে অনুভূমিক (হরাইজন্টাল) জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা। কিন্তু আমাদের এখানে সেটির উপস্থিতি নেই। নির্বাহী বিভাগকে আইন ও বিচার বিভাগের কাছে জবাবদিহি করার কথা ছিল। দুজন বিচারপতিকে বের করা দেখে সেই অবস্থাটি উপলব্ধি করা যায়। এছাড়া উলম্ব (ভার্টিক্যাল) জবাবদিহিতার বেলায় মিডিয়া ও সুশীল সমাজের চিত্রটিও নাজুক ছিল।’ 

সাবেক বিচারক মাসদার হোসেন বলেন, ‘সংবিধানের অনেক জায়গা জনবান্ধব না। ফলে সাধারণ মানুষ সুবিধা পাচ্ছে না। তাই এটিকে পরিবর্তন করতে হবে। এর পাশাপাশি দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ভঙ্গুর। এসব বিষয়ে সংস্কার করতে হবে।’