বিদেশী ঋণের নতুন প্রতিশ্রুতির গতি না বাড়লেও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোকে ঋণের সুদ ও আসল বাবদ ৩৮০ কোটি ২৩ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৩৫০ কোটি ৭১ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ২৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার।

আজ রোববার প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) জুলাই-এপ্রিল সময়ের হালনাগাদ বিদেশী ঋণ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ), এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি), জাপান, ভারত, চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা থেকে মোট ঋণ প্রতিশ্রুতি এসেছে ২৮০ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এডিবি, প্রায় ১২৭ কোটি ডলার। এছাড়া আইডিএ দিয়েছে ৪১ কোটি ডলার এবং চীন দিয়েছে ২৩ কোটি ডলার। অন্যান্য দেশ ও সংস্থা থেকে এসেছে ৮৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি। তবে আলোচ্য সময়ে জাপান, ভারত, রাশিয়া ও এআইআইবি থেকে নতুন কোনো ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে একই সময়ে বিদেশী ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ৪২৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থছাড় করেছে আইডিএ, প্রায় ৮৩ কোটি ডলার। এছাড়া রাশিয়া দিয়েছে ৮২ কোটি ডলার, এডিবি ৭১ কোটি ডলার, চীন ৫৩ কোটি ডলার, জাপান ৪২ কোটি ডলার এবং ভারত ২৫ কোটি ডলার। অন্যান্য উৎস থেকে অর্থছাড় হয়েছে ৫৮ কোটি ডলার।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে বিদেশী ঋণের নতুন প্রতিশ্রুতির তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বড় আকারের উন্নয়ন বাজেট এবং বিদেশী ঋণনির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে। তবে সম্প্রতি বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ পরিস্থিতির প্রভাবে নতুন বিনিয়োগ ও ঋণ প্রতিশ্রুতির গতি কমেছে। ফলে নতুন প্রতিশ্রুতি কমলেও আগের প্রকল্পগুলোর দায় পরিশোধ অব্যাহত রয়েছে।