জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এক বছরের জন্য এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করবেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এমন ইঙ্গিত দেন খলিলুর রহমান।

ইউএনজিএ’র এ বিজয়কে কাকে উৎসর্গ করবেন জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, এ বিজয় বাংলাদেশের। এ বিজয় প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যদি এ সিদ্ধান্ত না নিতেন এবং দৃঢ় সমর্থন না দিতেন, তাহলে ১০ বছরের যাত্রা আমরা ১০ সপ্তাহে সম্পন্ন করতে পারতাম না। আমরা এ বিজয় বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য উৎসর্গ করছি।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত ড. খালিলুর রহমান ইঙ্গিত দেন যে তিনি ঐতিহাসিক নজির এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউএনজিএ সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আজ, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে একই সঙ্গে উভয় দায়িত্ব পালন করা সম্পূর্ণ সম্ভব। এখন এটি বেশ স্বাভাবিক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ত্যাগ বা স্থগিত করবেন কি না এ নিয়ে এখনই কোনো তাড়াহুড়ার কারণ নেই। আমি কি এ কাজ ছেড়ে দেব? এটাই কি প্রশ্ন? এত তাড়াহুড়া করবেন না। নজির আছে।

চার দশক আগে একই গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশের পূর্ববর্তী দায়িত্বের কথা স্মরণ করে ড. খালিলুর রহমান বলেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংসদ স্পিকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী ১৯৮৬-৮৭ সালে একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তিনি বলেন, আমি তার ব্যক্তিগত সচিব ছিলাম এবং তার সঙ্গে কাজ করেছি। তিনি দুই দায়িত্বই পূর্ণকালীনভাবে পালন করেছিলেন।

কূটনৈতিক মহলে তিনি তার মন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে সম্পূর্ণভাবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কাজে মন দেবেন কি না এ নিয়ে আলোচনা চলছে এমন এক সময় এ মন্তব্য এল।