বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘মনে রাখতে হবে, গণভোটের মধ্য দিয়ে আইন প্রণয়ন করা হয়ে যাবে না। গণভোটের মধ্য দিয়ে সংবিধান সংশোধন হয়ে যাবে না। এর জন্য আগে অবশ্যই জাতীয় সংসদ গঠিত হতে হবে।’
রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গতকাল আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ‘নারীর ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অসম্মান: প্রতিরোধে প্রস্তুত সচেতন নারী সমাজ’ শীর্ষক এ মৌন মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট হবে একই দিনে। জাতির উদ্দেশে গত বৃহস্পতিবার দেয়া ভাষণে এ সিদ্ধান্ত জানান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে সই হয়েছে, তা প্রতিপালনে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ। এর বাইরে চাপিয়ে দেয়া, জবরদস্তিমূলক কোনো প্রস্তাব যদি দেয়া হয়, তা জনগণ বিবেচনা করবে।’
জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিএনপি সোচ্চার থাকবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবে ক্ষুণ্ন হোক, তা আমরা চাই না। সেজন্য কোনো আরোপিত আইন দিয়ে, আদেশ দিয়ে, জবরদস্তিমূলক প্রস্তাব দিয়ে জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করতে দেব না।’
দেশে একটি দল ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ব্যবসা করছে বলে মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তাদের হাতে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে। তারা চায়, এ দেশের নারীরা যেন অন্দরমহলে বন্দি থাকে। যেন বাংলাদেশে অর্ধেক জনসমষ্টি অন্ধকারে থাকে। নারীর অগ্রগতি-উন্নতি যেন না হয়। সেজন্য তারা বলছে, কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিতে হবে। কিন্তু কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিলে নারীদের কর্মসংস্থান কমে যাবে।’
নারীরা যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে কাজ করবে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘কর্মঘণ্টা কমানোর সঙ্গে কর্মসংস্থানের বিপরীত সম্পর্ক আছে। কাজেই নারীর কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিলে চাকরিদাতারা তাদের চাকরি দিতে চাইবে না। এতে তাদের কর্মসংস্থান আরো কমে যাবে। তাই যারা নারীর কর্মঘণ্টা কমানোর কথা বলছেন, তাদের উদ্দেশ্য খারাপ।’
নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম গত ১৭ বছর নারীরা যেভাবে খুন-ধর্ষণের শিকার হতো, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। নারীরা তাদের মর্যাদা ফিরে পাবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, দেশে আজ আবার নারীরা অন্ধকারে ফিরে যাচ্ছে। তাদের ঘরে ফিরিয়ে দিতে কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কাজেই অধিকার আদায়ে নারীদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মর্যাদা ফিরে পেতে নারীদের সমস্বরে আওয়াজ দিতে হবে।’
নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব নিপুণ রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরীন ইসলাম খান, মায়ের ডাকের সমন্বয়কারী সানজিদা ইসলাম, ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বি, সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, নিলুফা চৌধুরী, শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আলম, সহসভাপতি রেহানা আক্তার প্রমুখ বক্তব্য দেন।










