গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে ফ্যাসিস্টদের বিতাড়ন করা সম্ভব হবে না। এখানে গণঅভ্যুত্থানের রাজনীতি ও মওলানা ভাসানীর দিশা খুব জরুরি। আমরা রাষ্ট্রকে যে গণতান্ত্রিক জায়গায় দাঁড় করাতে চাচ্ছি, তার প্রাথমিক ভিত্তি হতে হবে ন্যায়বিচার।
রোববার (১৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে গণসংহতি আন্দোলন - জিএসএর আয়োজনে “মওলানা ভাসানী ও গণঅভ্যুত্থানের রাজনীতি: বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ” শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা মওলানা ভাসানীকে আমাদের ভবিষ্যতের প্রয়োজনে স্মরণ করি। মওলানা ভাসানী এ দেশের স্বাধীনতার, স্বাধিকার আন্দোলন, আত্মনিয়ন্ত্রণের আন্দোলন, আত্মমর্যাদার আন্দোলন, সার্বভৌমত্বের আন্দোলন- সবগুলোয় অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, এবারের গণঅভ্যুত্থানে লুটপাট, দুর্নীতি, রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে ধনসম্পদ আহরণ, শোষণ, বৈষম্য, বঞ্চনার বিরুদ্ধে আমাদের খেটে খাওয়া মানুষেরা লড়াইটা করেছেন। ১৬ জুলাই আমাদের আবু সাঈদের আত্মদানের পরে মানুষ যে জেগে উঠেছে এবং পরবর্তীকালে যে বিরাট গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, তাতে শ্রমিক, কৃষক, শ্রমজীবী, মেহনতি তরুণদেরই অংশগ্রহণ বেশি। নারী, পুরুষ, সব জাতির, সব লিঙ্গীয় পরিচয়ের মানুষরা সেখানে ছিলেন। সুতরাং তাদের ন্যায্য হিস্যা কোথায়? নারীর ন্যায্য হিস্যা কোথায়? কিংবা যেকোনো লিঙ্গীয় পরিচয়ের মানুষ, প্রত্যেকটি মানুষ যারা ক্ষমতার মধ্য দিয়ে অধস্তন থাকেন, তাদের ন্যায্য হিস্যা কোথায়? সেই হিস্যা চাওয়ার জায়গাটাই কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের রাজনীতি। সেটা ৬৯-এ ছিল, ৭১-এও ছিল। আজকে এই ২৪-এ এসেও আমাদেরকে গণঅভ্যুত্থানের এই রাজনীতিটা সামনে আনতে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আজকে নারীরা, নিপীড়িত জাতি, নিপীড়িত ধর্মীয় গোষ্ঠী, সব ধরনের ক্ষমতার মধ্য দিয়ে যারা প্রান্তিক মানুষ, শ্রেণীগতভাবে যারা দুর্বল - সমস্ত মানুষের উপরে নানাভাবে আক্রমণ চলছে। এ আক্রমণগুলোর বিরুদ্ধে কিন্তু গণঅভ্যুত্থান দাঁড়িয়েছিল। গণঅভ্যুত্থান যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে, সে আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একটা রাজনৈতিক শক্তি লাগে। সেটা না থাকলে গণঅভ্যুত্থানের বিপরীতে ফ্যাসিবাদীদেরই আরেকটা নতুন রূপ হাজির হতে থাকে। এক কালের মজলুম আবার জালেম হয়ে ওঠার বাস্তবতা তৈরি হয়।
জোনায়েদ সাকি বলেন, জামাত ইসলামী সহ আটটি রাজনৈতিক দল তারা পরিষ্কার করে বলেছেন, তাদের দাবি না পূরণ হলে নির্বাচন তারা হতে দেবেন না। এটার অর্থ কী? এ হুমকি তারা কাকে দিচ্ছেন? তিনি বলেন, ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে আমাদের এ গণতান্ত্রিক উত্তরণটা করতে হবে। ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া চাপিয়ে দেয়ার রাজনীতি দিয়ে কিংবা কোনো কর্মসূচি দিয়ে, কোনো লক্ষ্য দিয়ে কোনোভাবেই এ গণতান্ত্রিক উত্তরণ সফল হবে না। আমরা সে কারণে অন্তর্বর্তী সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি যে, উত্তরণের পথ হচ্ছে বিচার, সংস্কার, নির্বাচন। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করা এবং সেই উত্তরণের জন্য ন্যূনতম যে জাতীয় ঐকমত্য দরকার, সে ঐকমত্য যাতে কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয় তার জন্য সর্বদা সচেষ্ট হওয়া। সেই কাজটাই সরকারকে দায়িত্ব নিয়ে করতে হবে। সেই দায়িত্বই তাদের দেয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, নিজেদের স্বার্থকে চাপিয়ে দিতে গেলে দেশে একটা বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হবে। সেই সংকটে কোনো রাজনৈতিক দলেরই, - আপাতত এখানে তারা যেভাবে ভাবছেন যে স্বার্থ উদ্ধার হবে - সেটা হবে না। বরং ফ্যাসিস্ট এবং তাদের দেশি-বিদেশি মিত্রদেরই সহায়তা হবে। আজকে এ গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও শহীদের রক্তের ঋণ নিয়ে, মাওলানা ভাসানীকে স্মরণ করে, গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে আমাদের যাওয়া দরকার।
আলোচনা সভার সূচনা বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। এ ছাড়া বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক,
ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রব এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
সভায় আরো ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আবদুর রশীদ নীলু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভুইয়া, দীপক কুমার রায়, আলিফ দেওয়ান, মনিরুল হুদা বাবন, ইখতিয়ার উদ্দিন বিপা, জাহিদ সুজন, আবদুল্লাহ নাদভী, তাহসিন মাহমুদ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফসহ গণসংহতি আন্দোলন ও অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা।










