জাতিকে বিভাজন থেকে রক্ষা করতে অবশ্যই '৭১ ও '২৪- কে নি:শর্ত ও নিরঙ্কুশ মেনে এগুতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। আজ মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
মাহফুজ আলম তার পোস্টে মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর কী হয়েছে, তা নিয়ে সমালোচনা করুন। ইতিহাস পর্যালোচনা করুন। কোনো সমস্যা নেই। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কী কী ঘটেছে, তা নিয়েও তর্ক উঠতে পারে। কিন্তু, সেসবই হবে মুক্তিযুদ্ধকে মেনে নিয়ে।
তিনি আরো লিখেছেন, যেমন, শেখ মুজিবের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠা নিয়ে আমরা বলব। উনি ফ্যাসিস্ট ছিলেন। কিন্তু, বাংলাদেশের জন্মে অনেক জাতীয় নেতৃত্বের মতন উনার অবদান অনস্বীকার্য। তাই, আমরা '৭২ পূর্ব শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রাপ্য গুরুত্ব দিব।
মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অস্বীকার করাকে জাতির ভিত্তির সঙ্গে বেঈমানি করা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা তার পোস্টে লেখেন, মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ ফ্যাসিস্ট হতে পারেন, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ ছিল আপামর জনগণের লড়াই। মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশের ফ্যাসিস্ট, ইসলামফোবিক ও খুনি হয়ে ওঠার কারণে আপনি খোদ মুক্তিযুদ্ধ বা সকল মুক্তিযোদ্ধাদের অস্বীকার কিংবা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেন না। এটা রাষ্ট্রের ভিত্তির সঙ্গে গাদ্দারি।
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা শক্তির রাজনীতিকে মেনে নেয়া হবে না— এমন মন্তব্য করে তিনি লেখেন, এ দেশের মানুষের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও বাংলাদেশের জন্মকে স্বীকার করেই এদেশে রাজনীতি করতে হবে। এর কোনো ব্যত্যয় হলে আপনাদের আমরা বাংলাদেশের পক্ষের, গণ অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি হিসাবে মেনে নিব না।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশপন্থীদের অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধপন্থী হতে হবে। তবে এটাও সত্য যে, মুক্তিযুদ্ধ করা অনেকেই ফ্যাসিস্ট ও তাবেদার হয়ে উঠেছিলেন। আজ তারা ছাত্র-জনতার কাছে পরাজিত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যারা যাবেন, তারা ও মজলুম বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে যাওয়ার কারণে অতীতে পরাজিত হয়েছেন, সামনেও পরাজিত হতে বাধ্য।
তিনি সেখানে আরো লেখেন, জুলাই সুযোগ নিয়ে এসেছে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার। লীগের সঙ্গে বিচারকার্য সম্পন্ন করে রিকন্সাইল করতেও আমরা আগ্রহী ছিলাম। অথচ, দিল্লীর আশ্রয়ে থেকে দেশবিরোধী চক্রান্ত করাকেই তারা বেছে নিল। আপনারাও ইতিহাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবেন না। জাতিকে বিভাজন থেকে রক্ষা করতে অবশ্যই '৭১ ও '২৪- কে নি:শর্ত ও নিরঙ্কুশ মেনে এগুতে হবে।










