রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার নিয়ে আগামীকাল শনিবার থেকে আলোচনা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর হাইকোর্ট গেটের সামনে শিক্ষা চত্বরে স্বৈরাচার পতন আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘আমরা দেশে অন্যায়ের বিচার করতে চাই। আমরা দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। তাই আগামীকাল থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার নিয়ে যে আলোচনা শুরু হবে সেটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমি আশা করি, বাংলাদেশ আর কখনই আর ফ্যাসিবাদের দিকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ রাখবে না। যারা আইনপ্রণেতা হবেন, তারা আইন-কানুন, সংবিধান এমনভাবে প্রস্তুত করবেন যেন ফ্যাসিবাদ আর মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে।

এদিকে বিএনপি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র পরিষদ, ’৮২-৯০ ছাত্র-আন্দোলনের নেতাকর্মীরা, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ’৯০-এর ডাকসু সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য, পাহাড়ি ছাত্র ফ্রন্টসহ বিভিন্ন সংগঠন স্বৈরাচার পতন আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘নব্বই ও চব্বিশের স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন একই সূত্রে গাঁথা। তাই সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সব রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকাতে হবে।’

বাংলাদেশের তৎকালীন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ওই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ ও বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করে। প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে গুলি চালায় পুলিশ। গুলিতে নিহত হন জাফর, জয়নাল, দীপালী, মোজাম্মেল, আইয়ুব ও কাঞ্চন। আহত হন আরো অনেকে। ছাত্র-জনতার তখনকার সেই আন্দোলনের মুখে বাতিল করতে হয়েছিল সেই শিক্ষানীতি। সেই কারণে ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।