নারায়ণগঞ্জে ইন্টারনেট ব্যবসা দখলে নিতে
এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে বাড়িতে হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ এনেছেন এক তরুণ ব্যবসায়ী।
গতকাল শনিবার (৩ জুন) দিবাগত রাতে পরপর দুই দফার হামলায় ওই ব্যবসায়ীসহ পরিবারের আরো
তিন সদস্য আহত হয়েছেন।
অভিযোগ উঠা আশরাফুল ইসমাইল রাফেল প্রধান
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলছেন, রাফেল
ও তার ভাই রাসেল প্রধান অনুসারীদের নিয়ে তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালান।
হামলায় আহতরা হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের
১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাসদাইর এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ইফাদুর রহমান তুষার (৩২), তার
বড় বোন শান্তা রহমান বৈশাখী (৩৬), মামা মতিন আহমেদ (৭০) ও কামাল আহমেদ (৬০)।
গতকাল মধ্যরাতের পর শান্তা রহমান জানান,
মাসদাইর এলাকায় তার ছোটভাই তুষারের ‘রান অনলাইন’ নামে একটি ব্যবসা
প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি মাসদাইর ও আশপাশের এলাকার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার। একই
এলাকায় ইন্টারনেটের ব্যবসা রয়েছে ছাত্রলীগ নেতা রাফেল ও তার ভাই রাসেলের। তারা তুষারের
ব্যবসা দখলে নিতে চান।
তিনি বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার
রাফেলের লোকজন আমার ভাইয়ের ৩০ হাজার টাকার ইন্টারনেট লাইন কেটে দেয়। আজ শনিবার রাত
সাড়ে আটটার দিকে রাফেল ও রাসেলের নেতৃত্বে অর্ধশত সন্ত্রাসী পিস্তল, ধারালো অস্ত্র
ও লাঠিসোটা হাতে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। আমার ভাইকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক পেটায়।
পরে নয়টার দিকে আমাদের বাড়ির সামনে গুলি করে, বোমা ফাটায়। বৃষ্টির মতো ঢিল ছুড়ে আমাদের
বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলে। বাড়ির সামনে আমাদের ভাড়াটিয়ার একটা মোটরসাইকেলও ভাঙচুর
করে। বাধা দিলে আমাকে ও আমার দুই মামাকে তারা মারধর করে। আমার বড়মামার দিকে পিস্তল
তাক করে গুলি করে দেয়ারও হুমকি দেয়।’
স্থানীয় দুই প্রত্যক্ষদর্শী
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, তারা অন্তত তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন এবং অন্তত
দুইবার ককটেল বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনেছেন।
ঘটনাস্থলের দুই প্লট পরেই স্থানীয় কাউন্সিলর
মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের বাড়ি। শনিবার দিবাগত রাতে তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট ব্যবসাকে
কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। আমি নিজেও ককটেলের মতো বিস্ফোরণ হয়েছে এমন
শব্দ দুইবার শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসছে, তারা তদন্ত করছে।’
স্থানীয়রা জানান, নগরীর বেশকিছু এলাকায়
ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের
ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন। অয়ন ওসমানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী বলে পরিচিত ছাত্রলীগ নেতা রাফেল
প্রধান।
তুষারের বড়বোন শান্তা বলেন, ‘অয়ন ওসমানের কাছ
থেকে ইন্টারনেটের লাইন নিয়ে আমার ভাই তুষার ব্যবসা করে। রাফেল ও রাসেলরাও অয়ন ওসমানেরই
লাইন চালায়। কিন্তু আমার ভাইয়ের লাইন রাফেলরা দখলে নিয়ে শুধু নিজেরাই ব্যবসা করতে চায়।’
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে হামলার
কথা অস্বীকার করেন ছাত্রলীগ নেতা আশরাফুল ইসমাইল রাফেল। তিনি বলেন, ‘কারো বাড়িতে আমি
বা আমার ভাই কোনো হামলা চালাইনি।’
এদিকে হামলার খবর পেয়েছেন বলে জানান ফতুল্লা
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক দিপু। শনিবার রাতে তিনি বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে
ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ
হয়েছে এমন কোনো আলামত এখনো পর্যন্ত আমরা পাইনি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে৷ আইনগত
ব্যবস্থা প্রক্রিয়ধীন রয়েছে।’









