সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ‘নির্যাতনে’ রায়হান আহমদ নিহতের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের বহিষ্কৃত উপপরিদর্শক আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রায়হানের মৃত্যুর এক মাসের মাথায় গতকাল সকালে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নের ডোরা সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফরিদ উদ্দিন বলেন, আকবর ভারতে পালিয়ে যেতে পারে এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কানাইঘাট সীমান্তে রোববার থেকে নজরদারি বৃদ্ধি করি। গতকাল সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করি।

আকবরকে গ্রেফতারের কিছু ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যায়, খাসিয়া সম্প্রদায়ের কয়েকজন যুবক একটি পাহাড়ি ছড়ায় আকবরের হাত-পা বেঁধে নিয়ে আসছেন।

ওই যুবকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কেঁদে কেঁদে আকবর বলেন, রায়হানকে আমি একা মারিনি। পাঁচ-ছয়জন মারছিল। এজন্য মরে গেছে।

তুমি কেন পালিয়ে গেলে স্থানীয়দের এমন প্রশ্নের জবাবে বহিষ্কৃত এসআই আকবর ভূঁইয়া বলেন, সাসপেন্ড করেছে, অ্যারেস্ট করতে পারে।

আকবর বলেন, আমাকে সিনিয়র দুজন বলেছিল, তুমি আপাতত চলে যাও, ক’মাস পরে আইসো। দুই মাস পরে সব ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে আবার সব হ্যান্ডল করা যাবে। তবে কারা এমনটি বলেছিলেন বা কার নির্দেশে তিনি পালিয়ে যান এ সম্পর্কে কিছু বলেননি।

এ সময় ভিডিওতে দেখা যায়, আকবরের হাত-পা বাঁধতে বাঁধতে যুবকরা বলছেন, মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য সে মানুষকে মেরে ফেলেছে। ওই যে ইন্টারনেটে ভিডিও ছাড়ছে। রায়হান নাম।

ওই যুবকরা বাংলায় কথা বললেও তাদের কণ্ঠস্বর ছিল অবাঙালিদের মতো। ওই ভিডিও দেখে কানাইঘাটের স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, ভিডিওর যুবকদের কথাবার্তা ও এলাকা দেখে বোঝা গেছে, তারা ভারতের খাসিয়া আদিবাসী হতে পারেন।

তবে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশ সব সময় স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করে। এক্ষেত্রেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আকবরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর শনিবার মধ্যরাতে রায়হানকে নগরীর কাষ্টঘর থেকে ধরে আনে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের ফলে রায়হান মারা যান। ১১ অক্টোবর রাতেই রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।