ধসের তিনদিন পর গতকাল দুপুরে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির-বিন-আনোয়ার ধসে যাওয়া সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষাবাঁধের চলমান জরুরি সুরক্ষা কাজ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বাঁধ নির্মাণকারী ২৫ বছর আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান হোন্দাই কোম্পানির ত্রুটিপূর্ণ কাজকে দায়ী করেছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্মাণের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হোন্দাই কোম্পানি থেকে বাঁধের স্থায়িত্বকাল বলা হয়েছিল ১০০ বছর। অথচ নির্মাণের মাত্র ১০ বছরের মাথায় ওই বাঁধে পর পর কয়েকবার ধস দেখা দেয়। নকশায় ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজে ত্রুটি ছিল বলে তিনি মন্তব্য করে বলেন তা না হলে কেন এভাবে বারবার ধস নামবে।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ, লে. কর্নেল সায়েম ও সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন ও পাউবোর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা। প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষাবাঁধে (হার্ডপয়েন্ট) ধস দেখা দেয় মঙ্গলবার দুপুরে। মুহূর্তেই যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যায় বাঁধের প্রায় ১৫০ মিটার অংশ।

পানিসম্পদ সচিব বলেন, জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের অংশ হিসেবে তাত্ক্ষণিকভাবে জিওটেক্সে বালি ও ব্লক ফেলে ধস এবং ভাঙন নিয়ন্ত্রণে পাউবোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া আগামীতে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষাবাঁধ পর্যন্ত সাড়ে আট কিলোমিটার অংশেই যমুনার তলদেশে ও বাঁধ ঘেঁষে ব্যাথেমেট্রিক সার্ভে করা হবে। শহর রক্ষাবাঁধের ঢালে যেসব স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হবে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনে হার্ডরক ফেলে সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তত আছে জানিয়ে কবির বিন আনোয়ার আরো বলেন, সিরাজগঞ্জ শহরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাঁধের ধস নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।