মুজিবনগর সরকারের হেডকোয়ার্টার্স ছিল কলকাতার থিয়েটার রোডে। ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর যশোর টাউন হল মাঠের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী, কামারুজ্জামান, জহির রায়হানদের আসার খবরে দুপুর থেকে মাঠে লোকজন আসতে শুরু করে। বিকাল ৪টার দিকে তারা জনসভাস্থলে পৌঁছান। মাঠ ছিল ছোট, জনসভায় সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিতি ঘটে। হানাদারমুক্ত বাংলার প্রথম জনসভায় প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ জনতার উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আর ধ্বংস নয়, যুদ্ধ নয়। এ মুহূর্তে কাজ হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলা।’ সেদিন তিনি সর্বস্তরের মানুষকে স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনায় দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ওই জনসভায় দেশের একমাত্র ফটোসাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ রায়হান (৯১) তার ইয়াসিকা ৬৩৫ মডেলের ক্যামেরায় সেদিনের ঐতিহাসিক জনসভার ছবি তুলেছিলেন। গতকাল  যশোরের ঐতিহাসিক টাউন হল ময়দানে স্বাধীনতা উন্মুক্ত মঞ্চে সংবর্ধিত হয়ে এভাবে সে দিনের স্মৃতিচারণা করেন আবদুল হামিদ রায়হান।

যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের প্রথম কোনো জনসভার স্থিরচিত্র যিনি ধারণ করেছিলেন; তার মুখেই ঐতিহাসিক দিনের বিবরণ শুনে উপস্থিত অনেকেই আপ্লুত হন। এতদিন পর যশোরবাসী তাকে সংবর্ধনা দেয়ায় সংশ্লিষ্টদের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর একটি স্মরণীয় দিন। এ দিনে হানাদার বাহিনীর কবলমুক্ত যশোরে স্বাধীন বাংলার প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই জনসভায় বিদেশী কয়েকজন সাংবাদিক এবং বাংলাদেশের একমাত্র আমিই উপস্থিত ছিলাম।’

এর আগে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর যশোর জেলা পরিষদ স্বাধীনতা উন্মুক্ত  মঞ্চটি পুনরায় নির্মাণ করা হয়। এ দিন বিকালে ওই মঞ্চের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি। জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, মুক্তিযুদ্ধকালীন বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান আলী হোসেন মনি, ডেপুটি প্রধান রবিউল আলম প্রমুখ।