আগামীকাল ঈদুল আজহা। শেষ মুহূর্তে গরু, ছাগল বেচা-কেনায় সগরম পশুর হাটগুলো। বৃষ্টিভেজা দিনেও হাঁকডাকে মুখর বাজারে ভিড় করছে ক্রেতারা। পশুর পাশাপাশি জমে উঠেছে কোরবানি সরঞ্জামের বাজারও। ২০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পাটি, বাঁশের চাটাই, খাইট্টা (কাঠের গুঁড়ি), ঝুড়ি, খড়, ঘাস ও কাঁঠাল পাতা। তবে গত বছরের তুলনায় এসব মৌসুমি পণ্যের দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

রাজধানীর রামপুরার ওয়াপদা রোড মোড় থেকে ৫০০ টাকায় মাঝারি আকারের একটি খাইট্টা কিনেছেন স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল হক। আগের কোরবানিতে একই সাইজের খাইট্টা কিনেছিলেন ৩৫০ টাকায়, এবার খরচ হয়েছে ১৫০ টাকা বেশি।

eid_adha1

বণিক বার্তাকে জহিরুল হক বলেন, ‘কোরবান আসলে গরু কাটতে অনেক সরঞ্জাম কিনতে হয়। দুদিন আগে গরু কিনেছি। ঘাস ও ভূসি কিনতে হয়েছে এক হাজার টাকার। আজকে খাইট্টা ও পাটি কিনলাম। খাইট্টা নিয়েছে ৫০০ আর পাটি ৩০০ টাকায় কিনেছি। গত বছর খাইট্টা ৩০০-৪০০ টাকা ছিল এবার সেটি ৫০০ টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে না।’

কারওয়ান বাজারে ২০০ চাটাই ও ৩০০ খাইট্টা নিয়ে নরসিংদীর পলাশ উপজেলা থেকে এসেছে ডিগ্রি পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী ও তার চাচা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই তরুণ বলেন, প্রথমবারের মত মৌসুমি ব্যবসায়ী হিসেবে ঢাকায় এসেছি। ৫০ শতাংশ পণ্য বিক্রিও হয়েছে

একই মত কারওয়ান বাজারে খাইট্টা ও চাটাই কিনতে আসা মজিবুরের। তিনি বলেন, ‘গরু কিনে কোরবানি করতে গিয়ে আরো কয়েক হাজার টাকার সরঞ্জাম কিনতে হচ্ছে। একটা বাঁশের চাটাই ৫০০ টাকা বলছে, বড় খাইট্টা বলছে ৭০০ টাকা। আবার গরুর জন্য ঘাস, খড় তো আছেই। এমনিতে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। সে জায়গা এত টাকা খরচ করার মত সামর্থ্য তো সবার নেই। তবুও একদিনের জন্য এসব কিনতে হচ্ছে।’

eid
রামপুরা ও কারওয়ান বাজারের মৌসুমি বিক্রেতারা জানান, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, জামালপুর, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, শরীয়তপুর ও সাভার এলাকা থেকে প্রতিবছর খাইট্টা, চাটাই, ঘাস ও খড় নিয়ে বিক্রি করতে আসেন তারা

রাজধানীর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোরবানি সামনে রেখে ছোট-বড় সব বাজার ও অলিগলিতে দা, ছুরি, চাপাতির পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে খাইট্টা, হোগলার চাটাই, পাটের রশি, ছুরি-চাপাতি, ভুসি, খড়‌, ঘাস ও কাঁঠালের কাঁচা পাতা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এসব প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছে রাজধানীর অলিগলির মোড়ে। অনেকে দুদিনের জন্য ব্যবসায় নেমেছেন।

eid_adha2

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার আকারভেদে চাটাই বিক্রি হচ্ছে ২০০-৬০০ টাকায়। পাটি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪০০ টাকায়। মাংস কাটার জন্য ব্যবহৃত খাইট্টা বিক্রি হচ্ছে ২০০-৫০০ টাকায়। আবার বড় আকারের খাইট্টার দাম পড়ছে ৭০০-৮০০ টাকা। সবুজ ঘাসের আঁটি ৫০-১০০ টাকা। শুকনা খড়ও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। ছোট আঁটি ৩০-৫০ টাকা, বড় আটিঁ ৮০ টাকা। ভুসির দাম কেজি ৬০-৯০ টাকা। এছাড়া ছাগলের জন্য কাঠাঁল পাতার আঁটি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৮০ টাকা।

রাজধানীর রামপুরার ওয়াপদা রোড মোড় থেকে ৫০০ টাকায় মাঝারি আকারের একটি খাইট্টা কিনেছেন স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল হক। আগের কোরবানিতে একই সাইজের খাইট্টা কিনেছিলেন ৩৫০ টাকায়, এবার খরচ হয়েছে ১৫০ টাকা বেশি

রামপুরা ও কারওয়ান বাজারের মৌসুমি বিক্রেতারা জানান, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, জামালপুর, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, শরীয়তপুর ও সাভার এলাকা থেকে প্রতিবছর খাইট্টা, চাটাই, ঘাস ও খড় নিয়ে বিক্রি করতে আসেন তারা। ২০০-৫০০ টাকার এসব পণ্য কোরবানিকে ঘিরে দু-তিন মাস আগে থেকে তৈরি হয়্। অনেকে স্থানীয়দের থেকে কম দামে কিনে ঢাকায় এনে বেশি দামেও বিক্রি করেন। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা শেষ মুহূর্তে কম দামেও বিক্রি করেন এসব পণ্য।

eid_adha3

কারওয়ান বাজারে ২০০ চাটাই ও ৩০০ খাইট্টা নিয়ে নরসিংদীর পলাশ উপজেলা থেকে এসেছে ডিগ্রি পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী ও তার চাচা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই তরুণ বলেন, ‘প্রথমবারের মত মৌসুমি ব্যবসায়ী হিসেবে ঢাকায় এসেছি। ৫০ শতাংশ পণ্য বিক্রিও হয়েছে। আমাদের এখানে ৩০০-৬০০ টাকার ছোট-বড় গাছের গুড়ি আছে। আর ২৫০-৪০০ টাকার মধ্যে চাটাই আছে। এক মাস ধরে নরসিংদীর বিভিন্ন জায়গা থেকে এগুলো সংগ্রহ করেছি। গতকাল ট্রেনে ঢাকায় এসেছি। আজকে রাতের মধ্যে যতটা সম্ভব করে ভোরে বাড়ি চলে যাব। শুনেছিলাম ঢাকায় এসব পণ্য বেশি দামে বিক্রি হয়। কিন্তু ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। যে পরিমাণ খাইট্টা, চাটাই আসছে সে পরিমাণ ক্রেতা আসবে কিনা বোঝা যাচ্ছে না।’