গাইবান্ধায় নানা সংকটের মধ্যেও টিকে আছে মৃৎশিল্প। একটা সময় মানুষ দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্যের মধ্যে মাটির তৈরি বিভিন্ন পাত্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সময়ের ব্যবধানে মাটির সেসব পাত্রের স্থান দখল করে নিয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিক পণ্য। সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের অভাবে শিল্পটি টিকতে পারছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে আধুনিকায়ন প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা।

মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালীর পালপাড়া, শিবপুর, কলাকোপা, ধুতিচোরা গ্রামের অনেকে এখনো শিল্পটি টিকিয়ে রেখেছেন। এছাড়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা, পাঁচপীর, ধূপনী, চণ্ডিপুর, কঞ্চিবাড়ী, শ্রীপুর, ধর্মপুর, সাদুল্যাপুর উপজেলার রসুলপুর, দামোদরপুর, ফুলছড়ি উপজেলার রসুলপুর, কঞ্চিপাড়া, ভাষারপাড়া, সাঘাটা উপজেলার ঝাড়াবর্ষা, পুটিমারী, পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণাথপুর, ভেলাকোপা চিকার মোড়, হিজলগাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর, আরজিশাহপুর ও শক্তিপুরে শিল্পটি টিকে আছে।

সরজমিন দেখা গেছে, পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণাথপুর ইউনিয়নের ভেলাকোপা চিকার মোড়ে মৃৎশিল্পীরা মাটি দিয়ে তৈরি করছেন বিভিন্ন পণ্য। কেউ সেগুলো রোদে শুকাতে ব্যস্ত, কেউ তৈরীকৃত পণ্য রঙ লাগাচ্ছেন। আবার কেউ সেগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে আগুনে পোড়াচ্ছেন।

পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণাথপুর ইউনিয়নের ভেলাকোপা চিকার মোড়ের পালপাড়ার সুনীল চন্দ্র পাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মাটির তৈরি এসব পণ্য আগের মতো আর বিক্রি হয় না। তবুও যাতে পূর্বপুরুষের পেশাটি বিলুপ্ত না হয়, এজন্যই আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। মাটি দিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন পণ্য গ্রামে গ্রামে বিক্রি করতাম। এর মধ্যে ছিল মাটির হাঁড়ি, কলস, পাতিল, সরা, থালা, চারি, মিষ্টি-দইয়ের পাতিল, বাটি, মাটির ব্যাংক, ফুলদানি, ছাইদনি, কলমদানি, ধূপদানি ও পুতুলসহ খেলনা সামগ্রী। বর্তমানে এসব সামগ্রীর প্রায় সবকিছুই দখলে নিয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের তৈরি পণ্য।’

গাইবান্ধা উদ্যোক্তা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান বাবু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শুধু পূর্বপুরুষের পেশা টিকিয়ে রাখতে নয়, যেহেতু তারা অন্য পেশায় যেতে পারছেন না, এজন্য জীবন বাঁচানোর তাগিদে এ কাজ করছেন। পেশাটি টিকিয়ে রাখার জন্য আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণ দরকার।’