কক্সবাজারের টেকনাফে বহুল আলোচিত শিশু আলো হত্যার সাড়ে ১০ বছর পর মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এতে ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও দুজনকে খালাস দেয়া হয়েছে। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল এ রায় ঘোষণা করেন। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার কোদ্দ নারায়ণপুরের মৃত আফতাব আলীর ছেলে মো. সুমন আলী (২৬), ঠাকুরগাঁও জেলার নিশ্চিন্তপুরের মৃত শামছুল হকের ছেলে ইয়াছিন প্রকাশ রায়হান (২৯), কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুরের মৃত আসলাম মিয়ার ছেলে মো. ইয়াকুব (৩৪), টেকনাফের গোদার বিল গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে মো. ইসহাক প্রকাশ কালু (৩১), টেকনাফের মহেশখালীয়া পাড়ার মৃত নবী হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলাম (২৮) এবং মিয়ানমারের মংডু থানার ধনচি পাড়ার মৃত আবদুর রহিমের ছেলে রোহিঙ্গা ছৈয়দুল আমিন প্রকাশ লম্বাইয়া (৪৭)। তাদের মধ্যে ইয়াছিন, ইয়াকুব, ইছহাক কালু কারাগারে রয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি আসামি সুমন, নজরুল, ছৈয়দুল আমিন লম্বাইয়া পলাতক রয়েছেন।

খালাস পাওয়া দুই আসামি হলেন টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ মাঝের পাড়ার মৃত মৌলভী আবদুল জলিলের ছেলে মহিবুল্লাহ (৪৫) ও টেকনাফ পৌরসভার লেঙ্গুরবিলের জাফর আহমদের ছেলে মো. দিদার মিয়া (৩৫)। তাদের মধ্যে মুহিবুল্লাহ জামিন নিয়ে পলাতক আর দিদার মিয়া কারাগারে। রায় ঘোষণাকালে কারাবন্দি আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আমিন উদ্দিন জানান, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট না। ঘটনার মূল হোতা মহিবুল্লাহ ও দিদারের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদার বিল এলাকার মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সাত বছরের ছেলে মো. আলী উল্লাহ আলোকে বাড়ির কর্মচারী মো. সুমন আলী অপহরণ করেন। তিনি মুক্তিপণ দাবির উদ্দেশ্যে শিশুটিকে বাড়ির সামনের কাছারি ঘরে নিয়ে যান। পরে পাখির বাসা দেখানোর কথা বলে আলোকে সেই কাছারি ঘরের সিলিংয়ে তুলে হাত-পা বেঁধে মুখে জোর করে স্কচটেপ লাগানোর চেষ্টা করেন। এ সময় শিশু আলো চিত্কার করলে সুমন আলী ও অন্য আসামিরা আলোকে অপহরণ করার বিষয়টি বাড়ির লোকজন জানতে পেরেছে ভেবে ভয়ে তাকে সিলিংয়ের ওপরই গলা কেটে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় নিহত আলী উল্লাহ আলোর বাবা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বাদী হয়ে ২০১১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির নাম উল্লেখ করে এবং চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে টেকনাফ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি পর্যায়ক্রমে টেকনাফ থানার দুজন এসআই ও একজন পরিদর্শক তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এ চার্জশিটের বিরুদ্ধে বাদী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে নারাজি আবেদন করলে আদালত বাদীর নারাজির আবেদন গ্রহণ করেন এবং ২০১৪ সালের ৪ মার্চ মামলাটি সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে পর্যায়ক্রমে সিআইডির একাধিক কর্মকর্তা তদন্ত করে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট এজাহারভুক্ত পাঁচজনসহ আটজন আাাসামির নাম উল্লেখ করে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। মামলাটি টেকনাফের আমলি আদালত থেকে বিচারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।

২০২০ সালের ২৪ জুলাই কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলাটির চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেন। মামলায় ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।