মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে আসামির বাড়ির পেছনে থাকা পরিত্যক্ত পুকুর থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্র রোমান শেখের (১৫) বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ছয়গাঁও এলাকায় নিখোঁজের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি সিয়ামের বাড়ির পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার হয়। পরে সেটি শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে আসামি সিয়ামের বাড়ির পাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। পরে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি পেলে শত শত নারী-পুরুষ জড়ো হয় সেখানে।

পরে একপর্যায়ে সিয়ামের বসতঘর ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা।

এরপর খবর পেয়ে, বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে প্রায় ২৩ দিন আগে নিখোঁজ শ্রীনগরের বেলতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর স্কুলশিক্ষার্থী ও অটোচালক ছাত্র রোমান শেখের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহটি সিমেন্টের খুঁটি ও ইটের সঙ্গে বেঁধে পুকুরে কচুরির ভেতরে গুম করার উদ্দেশে ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সিরাজদিখান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ ন ম ইমরান খান মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ২১ জানুয়ারি স্কুল ছাত্র রোমান শেখ বাসা থেকে অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ হন।

এ ঘটনায় ২৫ জানুয়ারি ৩ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন নিহত রোমানের পিতা মিরাজ শেখ।

পরে পুলিশ এ ঘটনায় সিয়ামসহ ২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় অটোরিকশাটি। তবে আসামিরা পুলিশকে রোমানের বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি।

এদিকে গতকাল বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নিখোঁজ স্কুলছাত্রের সন্ধানের দাবিতে সিরাজদিখান থানায় হামলা করে ভাংচুর চালায় বিক্ষুব্ধ স্বজন ও সহপাঠীরা।

নিহত রোমান শেখ (১৫) সিরাজদিখান উপজেলার থৈরগাঁও গ্রামের মিরাজ শেখের ছেলে।

এছাড়া মামলার প্রধান আসামি সিয়াম ওরফে জিহাদ (১৯) শ্রীনগরের ছয়গাঁও এলাকার রফিক ফকিরের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নির্যাতন মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তর হবে বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।