সংসদের উভয় কক্ষে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চালু, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিসহ পাঁচ দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ঢাকাসহ দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে গতকাল একযোগে স্মারকলিপি দেন দলটির নেতারা। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। তার আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে জামায়াত।

সমাবেশে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘যদি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন পিআর পদ্ধতি ছাড়া আগের নিয়মে নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হয়—আমরা বুঝব এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে একটি দলের আনুগত্য করা হচ্ছে। এ দেশের মানুষ এটি কখনই হতে দেবে না।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির বলেন, ‘আপনার রাজনৈতিক পরিচয় আমরা জানি। আপনি কোন দলের আনুগত্য করেন আমরা জানি। আপনি যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে না পারেন, তাহলে সরে দাঁড়ান। কিন্তু কোনো চক্রান্তমূলক নির্বাচনের যদি পাঁয়তারা করেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তার দাঁতভাঙা জবাব দেব।’

‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত বা সম্মতি নেয়ার জন্য একটি গণভোট আয়োজনের ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে এ ভোট কখন আয়োজন হবে, তা নিয়ে রয়েছে মতানৈক্য। এর মধ্যে বিএনপির মত জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন। আর জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি দলের দাবি, জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট করতে হবে।

গণভোট জাতীয় নির্বাচনের দিন একসঙ্গে হওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে গতকালের সমাবেশে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘গণভোটের ব্যাপারে জনগণ ঐক্যবদ্ধ, রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু একটা রাজনৈতিক দল কোন কারণে নির্বাচনের আগে গণভোট চাচ্ছে না, আমাদের বুঝে আসে না। ওই রাজনৈতিক দলটি গণভোটের সঙ্গেও একমত ছিল না। জনগণ গণভোট চায় বলে তারা গণভোটে আসতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু গণভোটের টাইম ফ্রেমের ব্যাপারে এখন যে বক্তব্য তারা দিচ্ছে, সে বক্তব্যের সঙ্গে এ দেশের মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। এ দেশের মানুষ আগে গণভোট চায়, জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি চায় এবং সেই জুলাই সনদের ভিত্তিতেই পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে আগামী মধ্য ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।’

জামায়াতের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মাধ্যমে গণভোট দিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করা। জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতিকে জুলাই জাতীয় সনদের অন্তর্ভুক্ত করে গণভোট করা। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা। স্বৈরাচারের ‘দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করাও জামায়াতের দাবির মধ্যে রয়েছে।