জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি বাংলাদেশের ওপর ‘ভারতের দাদাগিরি’ বন্ধে গুরুত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত রাবার ড্যাম পরিদর্শন শেষে গতকাল সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশ ইচ্ছে করলেই আমাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে পারে। আমি মনে করি, যেহেতু ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তারা আমাদের সহায়তা করেছে, তাহলে তো আরো বেশি করে তাদের বাংলাদেশকে সহায়তা করা দরকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা গত সরকার ও মোদি সরকারের সময় দেখেছি, উল্টো তারা বাংলাদেশকে চাপে ফেলেছে। সব নিয়ে গেছে কিন্তু বিনিময়ে আমাদের কিছু দেয়নি। এটা ছিল আওয়ামী লীগ ও হাসিনা সরকারের ব্যর্থতা—যে তারা কিছু নিতে পারেনি।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা অবশ্য শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এটা আমাদের রাজনীতি। আমরা বাংলাদেশ নামে যে ভূ-অঞ্চলে বাস করি, এখানকার পুরো পানির হিস্যা, আমাদের সীমান্তে হত্যা, আমাদের ব্যালান্স অব ট্রেডের সবকিছু ঠিক করা। এ জিনিসগুলোয় আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।’
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওদের মন্ত্রীদের বক্তব্য তো আপনারা শুনেছেন। তারা দেন-দরবার করতে যায় ভারতে, স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের মতো কথা বলে। এভাবে তারা পুরো বিষয়টাকে নিচে নামিয়ে দিয়েছে।’
নিজের দেশের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইক্যুয়াল ফুটিংয়ের কথা বলতে হবে। সমমর্যাদা রাখতে হবে। এ দেশের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে।’
এরপর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘বাঁচাও পদ্মা, বাঁচাও দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে আয়োজিত গণসমাবেশে যোগ দেন। মওলানা ভাসানীর পর খালেদা জিয়া ভারতের কাছে পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পানির হিস্যার আন্দোলন আরো জোরদার রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক মহলকে বোঝাতে হবে, পানির হিস্যা আমাদের ন্যায্য অধিকার, কারো দয়া নয়। সেই সঙ্গে আগামী সরকার শক্তিশালী না হলে পদ্মা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যতক্ষণ না পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ বিএনপির আন্দোলন চলবে। আর ক্ষমতায় গেলে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ করে পানি আটকে রেখে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের ফসল বাঁচানো হবে।’
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ভারতের দাদাগিরি দেখতে চায় না। সমপরিমাণ মর্যাদা দিয়ে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এতে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হতে পারে।’
বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের অন্তত এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করা হবে বলেও গণসমাবেশে প্রতিশ্রুতি দেন দলটির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘চুপি চুপি ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করেছে ভারত। এতে আমাদের দেশের পদ্মাপারের হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়েছে। তাই আমাদের পদ্মাসহ নদীগুলো বাঁচানো প্রয়োজন। ক্ষমতায় গেলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করবে বিএনপি।’
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। নির্বাচন যত দেরি হবে দেশ তত দুর্বল হবে, ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল দেশকে গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। এক বছর ধরে ঐকমত্য কমিশনে আলোচনার পরও দলটি পিআর পদ্ধতিতে ভোটের কথা বলছে। দেশের মানুষ তো এটা বোঝে না। কার ইঙ্গিতে এসব চাপানো হচ্ছে?’
ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘ভালো হওয়ার’ আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশে জামায়াতে ইসলামীর ভোট মাত্র ৫-৬ শতাংশ। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল দলটি। আজ তারা ক্ষমতা চায়। কিন্তু দেশের মানুষ তাদের বিশ্বাস করে না। তাই ভোটও দেবে না।’
এ সময় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যাসিস্টরা যাতে আর মাথা তুলতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আসতে দেবে না দেশের মানুষ।’










