রাজধানী ঢাকায় আগামী শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী যাকাত ফেয়ার। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে যাকাত— এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডের আলোকি কনভেনশন সেন্টারে মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য এটি উন্মুক্ত থাকবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ফেয়ার অর্গানাইজিং কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর দেশের জনগণের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন, দারিদ্রমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে যাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সঠিকভাবে যাকাত দিলে শুধু অভাবীদের সহায়তা করা নয় বরং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা যায়, যাতে তারা ভবিষ্যতে দাতা হতে পারে।
ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে এক লাখ কোটি টাকার যাকাত হয়। ইউএনডিপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৪ কোটি ১৭ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ কোটি ৮৭ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। যদি এ যাকাত সঠিকভাবে ব্যবহার করা যেত, তাহলে বাংলাদেশে কেউ অভুক্ত থাকত না।
সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের (সিজেডএম) উদ্যোগে ত্রয়োদশ যাকাত ফেয়ার অনুষ্ঠিত হবে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন শনিবার সকাল ১১টায় এটি উদ্বোধন করবেন। মেলায় রহিমআফরোজ, খাদিম সিরামিকস, কোহিনুর কেমিক্যালসহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান স্পন্সর হিসেবে রয়েছে। বিভিন্ন আর্থিক ও যাকাত প্রতিষ্ঠানের স্টল, যাকাত কনসালটেশন ডেস্ক ও ইসলামিক বইয়ের স্টল থাকবে।
ফেয়ারে মোট সাতটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী সেমিনার হবে ‘রোল অব ইসলামিক সোশ্যাল ফাইন্যান্স ইন ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক। এছাড়াও নারীদের জন্য ‘নারী জীবনে যাকাত, সাদাকাহ ও ওয়াকফ অনুশীলনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক সেমিনার ও প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ও যাকাত ক্যালকুলেশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হবে।










