টানা ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন শেষে যানবাহনের চাপে আবারো চিরচেনা রূপে ফিরেছে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কসহ সিরাজগঞ্জের সব মহাসড়ক। হাজার হাজার পরিবহনের চাপে মহাসড়কের ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে থেমে থেমে যানজট।

গতকাল সকাল থেকেই এ মহাসড়কে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুরের দিকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম গোলচত্বর পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়কের ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এ মহাসড়কে হাজার হাজার যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট কিছুটা কমলেও যানবাহনের ধীরগতি রয়েছে।

অন্যদিকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত অন্তত ১৮ কিলোমিটারজুড়েও থেমে থেমে যানজট রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যানবাহন চালক ও যাত্রীরা।

সদর উপজেলার কড্ডারমোড় এলাকার সুজন সেখ বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মুলিবাড়ী থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ১৫ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লেগেছে ৩ ঘণ্টা।

পশুবাহী ট্রাকের চালক আবু রায়হান বলেন, তীব্র যানজটের কারণে হাটিকুমরুল থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত যেতে সময় লেগেছে ৭ ঘণ্টা। এতে পশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, ঈদের আগে এ মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের মাত্রা বেড়ে যায়। কোরবানি ঈদে পশুবাহী যানবাহন চলাচল রয়েছে। তাছাড়া লোকডাউনের পরে যানবাহনের চলাচল কয়েক গুণ বেড়েছে। এছাড়া উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলার যানবাহন বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কে প্রবেশ করে। এ কারণে মহাসড়কটিতে সবসময়ই চাপ থাকে। ফলে হাটিকুমরুল থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার মহাসড়কে কিছুটা যানজট রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আব্দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্বর থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত এবং হাটিকুমরুল থেকে বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনা পর্যন্ত সকাল থেকেই থেমে থেমে যানজট দেখা দেয়। এর মধ্যে পশুবাহী ট্রাকসহ সাধারণ যানবাহনের চাপের কারণে বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানজট দীর্ঘ হচ্ছে। তিনি জানান, জেলা পুলিশ, ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছে।