অন্তর্বর্তী সরকার আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন আয়োজন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশ সঠিক পথে অগ্রসর হবে।’ নির্বাচন যত দেরি হবে বাংলাদেশ তত পিছিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রত্যাশার কথা বলেন।

জুলাই ও আগস্টের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের প্রতি বিএনপি, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহানুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য যে লড়াই করেছেন সেটি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার যে বৈঠক হয়েছে সে বৈঠকে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতি গণতন্ত্রে ফিরে যাবে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ তখন রাইট ট্র্যাকে (সঠিক রাস্তায়) উঠবে। পরিষ্কার করে বলতে চাই, সরকারকে বলতে চাই, অন্য রাজনৈতিক দলকে বলতে চাই, নির্বাচন যত দেরি হবে তত বাংলাদেশ পিছিয়ে যাবে।’

দ্রুত নির্বাচন না হলে বিভিন্ন সংকট দেখা দেবে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিনিয়োগ আসবে না। আমার মায়েরা-মেয়েরা আরো বেশি নিরাপত্তা হারাবে। মবোক্রেসি আরো বাড়বে। জুডিশিয়াল সিস্টেম ভেঙে পড়বে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়বে। সেজন্য দরকার একটি নির্বাচিত সরকার। যে সরকারের পেছনে মানুষ আছে, সে সরকারের পেছনে জনসমর্থন আছে। নির্বাচিত সরকারের চাইতে শক্তিশালী কোনো সরকার হতে পারে না। দীর্ঘ ১৫ বছর আমরা ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। আমাদের প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। গুমের শিকার হয়েছেন প্রায় সতেরোশ জন। সেখানে সিলেটের অত্যন্ত সাহসী নেতা এম ইলিয়াস আলীও রয়েছেন।’

জুলাই আন্দোলনে তারেক রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশনায়ক তারেক রহমান। আমাদের প্রিয় নেত্রী, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এখনো অসুস্থ অবস্থায় আমাদের প্রেরণা ও পরামর্শ দিয়ে চলেছেন। এখন আর কেবল কথার রাজনীতি নয়, এখন সময় কাজের। ত্যাগ ও রক্তের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটিয়েছি। গত ১৫ বছরে এ শাসকগোষ্ঠী প্রায় ২০ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। শুধু গত জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ৩৬ দিনের মধ্যে দুই হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন। শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব। তাদের পুনর্বাসন, সন্তানদের শিক্ষার নিশ্চয়তা ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন মির্জা ফখরুল। পরে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সিলেট সফরে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ইকবাল মাহমুদ টুকু, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন প্রমুখ।