শীত মৌসুমে এমনিতেই বিদ্যুতের চাহিদা কম, তার ওপর সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তবুও বিদ্যুৎ চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দিতে পারছে না বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। আজকেও বিদ্যুৎ চাহিদা ও সরবরাহে অন্তত ৪৫-৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। বেলা ১টা নাগাদ বিদ্যুৎ চাহিদা ও সরবরাহে এ ঘাটতি দেখা গেছে।
বিদ্যুৎ সঞ্চালনে নিয়োজিত পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির হিসাবে দেখা গেছে, বেলা ১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১০ হাজার ৬০৬ মেগাওয়াট, সেখানে উৎপাদন হয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ মেগাওয়াট। অন্তত ৪৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোকে গ্রাহক প্রান্তে এ লোডশেডিং দিতে হয়েছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বিপিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। যে কারণে সামান্য কিছু লোডশেডিং করতে হয়েছে। তবে এতে কোনো প্রভাব নেই। বিপিডিবি চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
বিপিডিবির বিদ্যুৎ চাহিদা প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, দিনের বেলায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা হবে ১০ হাজার ৬০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে ১০ হাজার ১১০ মেগাওয়াট। তবে প্রক্ষেপণের চেয়ে আজ বিদ্যুতের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস-আদালত ও কলকারখানার বড় একটি অংশ বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা কমে যায়। তবে এখন যেহেতু শীত মৌসুম শেষের দিকে এবং আজ শবেবরাত। সে কারণে প্রাক্কলনের চেয়ে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি তৈরি হবে।
তবে বিদ্যুৎ চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে লোডশেডিং বেড়ে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ১১৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং দেখা গেছে পিজিসিবির ওয়েবসাইটে। ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় ৬৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে।
বিতরণ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের গ্রাহক প্রান্তে বিদ্যুতের কোনো লোডশেডিং নেই। তবে বেশ কয়েকটি জেলায় গ্রাহকদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সন্ধ্যায় মফস্বল এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। কখনো আধা ঘণ্টা আবার কখনো ১-২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হওয়ার দাবি করেছেন তারা।










