বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এ নির্বাচনে নির্ধারিত হবে, দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেসির (উদার গণতন্ত্র) হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থী–রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের মধ্যে থাকবে? আজকে আমাদের এ পরীক্ষাটা খুব কঠিন পরীক্ষা। আমাদের অবশ্যই উদারপন্থী রাস্তা বেছে নিতে হবে। গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে। মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে।’
গতকাল রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, নির্বাচন হলে বিএনপি ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি’ (ভূমিধস বিজয়) পাবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আশা করছি, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটা গণতান্ত্রিক অবস্থায় পৌঁছাব। যেখানে গেলে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে নতুন একটা বাংলাদেশ রাষ্ট্র তৈরি করব। কাজও হয়েছে অনেক। আমরাও কাজ করেছি। আমরা যখন আন্দোলন করছিলাম, তখনই আমরা এ রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিলাম। প্রথমে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) দিয়েছিলেন ২০১৬ সালে ভিশন ২০৩০। এরপর আমাদের নেতা (তারেক রহমান) অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলাপ করে ৩২ দফা দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘যে সংস্কার নিয়ে সরকারপক্ষের অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, সেটি বিএনপিই ২০২২ সালে প্রথম সামনে এনেছিল। আমরা যা যা বলেছি, সব আজকে এখানে আছে। এ সংস্কার নিয়ে আবার আমাদের প্রশ্ন করে অনেকে—আপনারা কি সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে? এটা তো আমারই সন্তান। আমি তো তার জন্য প্রাণ দিতে পারি।’
বিএনপি মহাসচিব কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘তোমরা কিছুটা বেইমানি করেছ, আমার বলতে কোনো দ্বিধা নেই—যেগুলো আমরা একমত হই নাই, সেগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছ। তারপরও আমরা মেনে নিয়েছি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যারা অতীতে বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, স্বাধীনতায় বিশ্বাসই করেনি, তারাই ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে। আমাদের কথা খুব পরিষ্কার। আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়েছেন, আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার কথা বলেছেন।’
তিনি বলেন, ‘২৩ দিন বাকি আছে নির্বাচনের। এখন অনেকে বলে নির্বাচন হবে না, বাধা দেব। ভেতরে ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন তাদের তিনটা ভোটও নাই। বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেব না। তো ভাই, হোক নির্বাচন। দেখা যাক, কে কতটা ভোট পায়। জনগণ যদি আমাদের গ্রহণ করে, আমরা আছি। জনগণ যদি বাদ দেয়, বাদ দিয়ে দেবে। আমরা বিরোধী দলে থাকব। আগে থেকে এত গলাবাজি কেন?’
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান প্রমুখ।










