দিনাজপুরের হিলিতে গত বেশ কয়েকদিন তীব্র শীত অব্যাহত রয়েছে। শীতের কারণে কাজে যেতে পারছেন না অনেকে। কেউ কেউ শীতের কারণে কাজও পাচ্ছেন না। এতে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষ। বেশি বিপাকে বয়স্ক ও শিশুরা। তারা আক্রান্ত হচ্ছেন ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে।
ভোর থেকে কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাসের কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। বেলা বাড়ার পর রোদের দেখা মেলায় দিনে তাপমাত্রা কিছুটা বেশী থাকলেও বিকালের পর থেকে শীতের মাত্রা বাড়ছে। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। সন্ধ্যার পরপরই রাস্তাঘাট, বাজার ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। মানুষের চলাচল কমে যাচ্ছে।
দিনমজুর মকবুল হোসেন বলেন, আমরা গরীব মানুষ। কাজ না করলে পেট চলে না,
যে কারণে বাধ্য হয়ে কাজের সন্ধানে বের হতে হয়। তার পরও এখন কাজকর্ম তেমন পাওয়া যায় না। কোনো দিন জোটে, কোনো দিন জোটেই না।
বয়স হয়ে যাওয়ার কারণে গত কয়েকদিন যে শীত পড়ছে তাতে এত কম কাপড়ে শীত যায় না।
ফেরিওয়ালা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে গুড়সহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করি। কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশার কারণে ভ্যান চালিয়ে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পণ্য বেচতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কনকনে শীতের কারণে বের হওয়াই খুব কঠিন। বের হলেও বেচাবিক্রি নেই।
নৈশপ্রহরী আব্দুর রহিম বলেন, প্রচুর ঠাণ্ডা পড়ে। এ কারণে জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ অসুখ-বিসুখ লেগেই আছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, গতকাল দিনাজপুর অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৮৯ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩/৪ কিলোমিটার। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি ঘণ্টায় ৮/১২ কিলোমিটার পর্যন্ত উন্নীত হতে পারে। চলতি মাসের শেষের দিকে ২৯ ডিসেম্বর বা এর আশপাশে সময়ে হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যে কারণে আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। সে সঙ্গে নতুন করে একটি শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করতে পারে।











