ভ্রমণকারী পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি এক নারী পর্যটককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে কক্সবাজারের সব আবাসিক হোটেলে রুম বুকিংয়ের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেখাতে ও জমা দিতে হবে। এছাড়া আবাসিক হোটেলগুলোয় অনুসরণীয় একটি অভিন্ন আদর্শ কর্মপদ্ধতি (এসওপি) প্রণয়ন করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।
এছাড়া অন্য সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি হোটেলে কক্ষ সংখ্যা, মূল্য তালিকা ও খালি কক্ষের সংখ্যাসংবলিত ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন, পর্যটকদের সুবিধার্থে ডলফিন মোড়ে সুবিধাজনক স্থানে একটি তথ্যকেন্দ্র ও হেল্প ডেস্ক স্থাপন, আবাসিক হোটেলগুলোতে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু, হোটেল-মোটেল জোনে অবৈধ পার্কিং এবং সমাজবিরোধীদের কর্মকাণ্ড বন্ধে অভিযান জোরদারকরণ।
হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি জেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।
জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ বলেন, কক্সবাজারে পর্যটকদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য যে সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়েছে, সবগুলো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শহরের মান রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে জেলা প্রশাসন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান, ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, সহসভাপতি রেজাউল করিম, প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু তাহেরসহ পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
গত বুধবার সন্ধ্যায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে ২৫ বছর বয়সী এক পর্যটককে তুলে নেয়। তারা ভুক্তভোগীর স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে ও হত্যার হুমকি দিয়ে কয়েক দফা ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর স্বামী। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো তিনজনকে আসামি করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন কক্সবাজার শহরের বাহারছড়ার আশিকুল ইসলাম আশিক, ইসরাফিল জয় ওরফে জয়া ও মেহেদী হাসান বাবু। এছাড়া জিয়া গেস্ট ইন হোটেলের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটন মামলার ৪ নম্বর আসামি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগীর স্বামীর দায়ের করা মামলায় আসামি সাতজন। তাদের মধ্যে চারজনের নাম উল্লেখ রয়েছে। কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশকে মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয়েছে।










