টাকার বিনিময়ে করোনা রোগীদের ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদান ও নিজে করোনা পজিটিভ হয়েও রোগী দেখার দায়ে সিলেটে এএইচএম শাহ আলম নামে এক চিকিৎসককে এক লাখ টাকা জরিমানা ও ৪ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাবের ভ্রাম্যামন আদালতের অভিযানে এ দণ্ড দেয়া হয়।

আজ রোববার সন্ধ্যায় নগরীর মধুশহীদ এলাকার মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের নিতলায় ডা. এএইচএম শাহ আলমের চেম্বারে অভিযান চালায় র‌্যাব-৯। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায় বলেন, ডা. আলম অপরাধ স্বীকার করেছেন। তাকে ৪ মাসের জেল ১লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি অনাদায়ে আরও এক মাসের জেলা দেয়া হয়ে। তার সব অনিয়মের প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে।

সিলেট র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামিউল আলম জানান, ডা. আলম বিদেশযাত্রীসহ কয়েকজনকে করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট টাকার বিনিময়ে দিয়েছেন বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন। পরে তাকে নিয়ে তার চেম্বার মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান চালানো হয়।

এছাড়া তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। যদিও তিনি কোনো সরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন না। এছাড়া তিনি নিজে গত ১৪ জুলাই করোনা আক্রান্ত হন। এই তথ্য গোপন রেখেই চেম্বারে রোগী দেখে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, ডা. এএইচএম শাহ আলম নগরীর মধুশহীদ এলাকায় মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের নিচতলায় চেম্বার করেছেন। বিদেশগামীদের জন্য সরকার করোনা সনদ বাধ্যতামূলক করার পর প্রবাসীদের টার্গেট করেন ডা. শাহ আলম। ‘করোনা নেগেটিভ’ সার্টিফিকেট দেয়ার কথা বলে বিদেশগামীদের কাছ থেকে তিনি চার হাজার টাকা করে আদায় করেন। ফ্লাইটের ৪৮ ঘণ্টা আগে তিনি টাকা দেয়া বিদেশগামীদের ডেকে হাতে ধরিয়ে দেন প্রত্যয়নপত্র। রোগী বা যাত্রীকে না দেখেই নিজের প্যাডে দেয়া ওই প্রত্যয়পত্রে ডা. শাহ আলম লিখে দেন, তিনি ওই ব্যক্তিকে তার চেম্বারে দেখেছেন। তার মধ্যে কভিড-১৯ এর কোনো লক্ষণ নেই।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এই সনদের জন্য ১৬টি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।