বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির কার্যালয়ে দুই দফা হামলা হয়েছে। এ হামলার প্রেক্ষিতে থানায় জিডি করা হয়েছে সমিতির পক্ষ থেকে।

বর্তমানে তালাবদ্ধ রয়েছে সমিতির কার্যালয়। বিবদমান পরিস্থিতিতে আগামী সোমবার সমিতির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতি সমিতির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা চাই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রফেশনাল বডি নেতৃত্বে আসুক। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এক বছরের মধ্যে নির্বাচন করা। স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি নির্বাচনের ব্যবস্থা করে যারাই জিতবে তাদের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া। আমরা নিজেরা এখানে নির্বাচন করতে আগ্রহী না। ক্রান্তিকালে রাজনীতির বাইরে প্রফেশনাল বডির হাতে দায়িত্ব অর্পণ করার মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে থাকতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি। কর্মচারীদের দুই মাসের পাওনা পরিশোধ করেছি। সরকার থেকে ২০ লাখ টাকার অনুদান আসে সমিতিতে, সেটা আগস্টের পর বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সেটা পুনরায় চালু হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দুই বছরের জমে যাওয়া জার্নাল প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছি। সমিতি তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে এসেছিল।

এর আগে বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো অর্থনীতি সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির কার্যালয়ে আবার সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। গত সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল চারটায় একবার হামলা চালানো হয়। তার আগে ১২ ফেব্রুয়ারি হামলা চালানো হয়। এ হামলাকে নজিরবিহীন সাব্যস্ত করে অর্থনীতি সমিতি জানায়, সংবাদ সম্মেলনের নাম করে সমিতির কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে সমিতির স্বঘোষিত অ্যাডহক কমিটি, যা গঠনতন্ত্রবিরোধী ও বিধিবহির্ভূতভাবে গঠিত। এ হামলায় নেতৃত্ব দেন স্বঘোষিত অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক ও রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ভিপি ড. আজিজুর রহমান এবং ১৯৯৬ সালে জনতার মঞ্চের নেতৃত্ব দানকারী সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ মাহবুব এ জামিল। তারা গত ১৪/১৫ বছর ধরে আগের নেতৃত্বের সঙ্গে একত্রে কাজ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ১৮ মে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির নির্বাচনে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের প্যানেল জয়লাভ করে। ড. মো. আজিজুর রহমান ও সৈয়দ মাহবুব-ই-জামিলের নেতৃত্বাধীন আরেকটি প্যানেল পরাজিত হয়। আগস্টে পট পরিবর্তনের পর এ পরাজিত পক্ষ একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে সমিতি দখলের চেষ্টা করে। এতে স্থবির হয়ে পড়ে সমিতির কার্যক্রম। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির কাছে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তর করে নির্বাচিত কমিটি। এ কমিটি ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে দায়িত্ব গ্রহণ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তথাকথিত অ্যাডহক কমিটির নেতৃত্বে অর্থনীতি সমিতির কার্যালয়ে আক্রমণ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়া গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকালে স্বঘোষিত অ্যাডহক কমিটি সংবাদ সম্মেলনের নামে অফিসে ঢুকে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য ও কর্মচারীদের ওপর হামলা করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, সমিতির যেকোনো সদস্য যেকোনো দাবিদাওয়ার বিষয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দাবি বাস্তবায়নের যৌক্তিক প্রচেষ্টা চালাতে পারেন। কিন্তু এ ধরনের প্রয়াস না নিয়ে যেকোনো অপেশাদার মনোভাব নিয়ে দখল কিংবা হামলা করে কিংবা জিম্মি করে কোনো দাবি-দাওয়া আদায়ের হীন প্রচেষ্টা মেনে নেয়া যায় না। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বর্তমান সরকারকে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানান।