পর্যটন শহর কক্সবাজারের কলাতলীতে ৩৯ দশমিক ৭৮ একর জমি ২০১৮ সালে সরকারিভাবে খাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত জমির দখল রোধে জিরো টলারেন্স নীতিও নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবুও রাতের আঁধারে জমি দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে স্থাপনা।

অবশ্য জেলা প্রশাসন বলছে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারি সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। এ ব্যাপারে আইনি সব পথ অবলম্বন করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুগন্ধা পয়েন্টের জমির ওপর একটি প্রভাবশালী মহলের নজর রয়েছে। জাল দলিল তৈরি করে দখলের চেষ্টা একাধিকবার হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এ জমি পুরোপুরি সরকারের মালিকানাধীন। কোনো ভুয়া দলিল, জাল খতিয়ান বা কাগজপত্র দেখিয়ে সরকারি সম্পত্তি দখলের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। যারা এ ধরনের অপচেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে। সুগন্ধা পয়েন্টের ওই এলাকায় স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করে সম্প্রতি সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানের আওতাভুক্ত জমিতে দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের তথ্য পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার পরপরই কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানার নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হয় এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জমিটি নিয়ে সাচ্চিদানন্দ সেনগুপ্ত নামে এক ব্যক্তি রিট করেন। যার বিপরীতে ভূমি অফিস ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টে একটি আপিল করেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর তিন মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেন। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি স্থগিতাদেশ বাড়ানোর জন্য পুনরায় পিটিশন দাখিল করা হয়। তবে সেই সময়ও সীমাবদ্ধ।

২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) জানতে পারে, জমিতে মাটি ভরাট ও বেইজ ঢালাইয়ের কাজ চলছে। পরিদর্শনে গিয়ে কউক কর্মকর্তারা নির্মাণকাজ চালাতে দেখেন। তখন দখরদার হিসেবে সাচ্চিদানন্দ সেনগুপ্ত ও সৈনিক লীগ নেতা ওবাইদুল হোসেনসহ কয়েকজনের নাম উঠে আসে।

কউকের অথরাইজড অফিসার রিশাদ-উন-নবী বলেন, ‘সাইট পরিদর্শনের সময় মৌখিকভাবে অনুমোদিত নকশা দেখাতে বলা হয়। তবে দখলদাররা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এজন্য তাদের সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি।’

অভিযোগ রয়েছে, সাচ্চিদানন্দ সেনগুপ্ত কিছুদিন আগে কয়েকজন অ্যাডভোকেটসহ কউকের একটি শাখায় গিয়ে তার পক্ষে রিপোর্ট দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। দীর্ঘ কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি কউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। পরবর্তী সময়ে তার কাগজপত্র যাচাই করে সরকারের নথিতে জালিয়াতি ও অসংগতির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনার পর কউক কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসকের কাছে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সুগন্ধার জমিতে কাজ বন্ধ করে দখলদারদের সতর্ক করা হয়েছে। হাইকোর্টে তাদের করা মামলার বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে এরই মধ্যে রায় এসেছে। ওই জায়গা সরকারের মালিকানাধীন এবং সেখানে কেউ কোনো কাজ করতে পারবে না।’