কক্সবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের বিশেষায়িত বিভাগ সিসিইউ আবারো চালু হয়েছে। বন্ধ হওয়ার পাঁচদিন পর গতকাল সকাল থেকে চালু করা বিভাগটির জন্য দুজন চিকিৎসকও পদায়ন করা হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সিসিইউ দুজন চিকিৎসক দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। পরে আরো দুই চিকিৎসক বিনা বেতনে সেবা দিতে সম্মতি জানালে চারজন দিয়ে চালু করা হয়েছে বিভাগটি। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, টানা ৯ মাস ৩০ চিকিৎসকসহ ১৩০ জন কর্মচারী বিনা বেতনে সেবা দিয়ে চালু রেখেছিলেন বিভাগটি। ৮ মে বিভাগটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে একাধিকবার জানানো হয়েছে। পরে সোমবার রাতে দুজন চিকিৎসককে জরুরি ভিত্তিতে পদায়ন করা হয়েছে।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের স্বাস্থ্য ও জেন্ডার সাপোর্ট প্রকল্প (এইচজিএফপি), স্বাস্থ্য ও লিঙ্গ সহায়তা প্রকল্পের (এইচজিএস) অধীনে সদর হাসপাতাল ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আন্তর্জাতিক ও দেশী বিভিন্ন এনজিও সহায়তা দিয়ে আসছিল ২০১৯ সালের শুরু থেকে। সে সময় কক্সবাজার স্বাস্থ্য বিভাগে সরকারিভাবে নিয়োগ করা জনবল ছাড়াও সদর হাসপাতালে ১৯৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদায়ন করা হয়েছিল। হাসপাতালটিতে চালু করা হয়েছিল আইসিইউ, সিসিইউ, জরুরি প্রসূতি এবং শিশু সুরক্ষা সেবা কার্যক্রম। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি প্রচেষ্টায় প্রকল্পের মেয়াদ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। যেখানে ৩০ জন চিকিৎসক ও ১০০ কর্মচারী ছিলেন। যারা গত নয় মাস ধরে বিনা বেতনে সেবা দিয়ে আসছিলেন।

চিকিৎসকরা জানান, কক্সবাজার জেলার ২৫ লাখ মানুষের সঙ্গে ২০১৭ সালে যোগ হয়েছে ১২ লাখ রোহিঙ্গা। আর প্রতি বছর কক্সবাজারে বেড়াতে আসে কয়েক লাখ পর্যটক। বিপুল জনগোষ্ঠীর উন্নত সেবার আধুনিক সেবা প্রতিষ্ঠান ২৫০ শয্যা হাসপাতালটিতে ৩২৮টি পদের মধ্যে ৭৬টি শূন্য রয়েছে। জরুরি বিভাগে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শতাধিক রোগী সেবার জন্য আসে। অথচ মাত্র তিনজন চিকিৎসক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।