নির্মাণ ও ফ্যাক্টরি কর্মীর ভিসায় রাশিয়ায় যাওয়া ৩০ বাংলাদেশীকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের স্বজনরা। আজ রোববার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তারা এ অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে আটকে পড়া বাংলাদেশীদের দ্রুত সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান স্বজনরা।

মানবন্ধনে সন্তান রিপন হোসেনের মা রিনা বেগম বলেন, আমার ছেলে তার বন্ধুর সঙ্গে জাবালে নুর এজেন্সিতে যায়। সেখানে তারা দুজনই টাকা জমা দেয়। পরে এজেন্সি আমাদের অনেকদিন ঘুরানোর পর হঠাৎ করে এজেন্সি থেকে ভিসা হওয়ার কথা জানানো হয়। নির্মাণ কাজের ভিসা নিয়ে গত ৭ তারিখ রিপন ও তার বন্ধুসহ ৩০ জন রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর ৩ থেকে ৪ দিন কথা হয়েছে। এরপর আর কোনো কথা হয়নি। এরপরই তাদের কাজের কথা বলে যুদ্ধের ট্রেনিংয়ে নিয়ে গেছে। এখন তাদের যদি উদ্ধার করতে হয় তাহলে সেখান থেকে উদ্ধার করতে হবে। নইলে আর উদ্ধার করা যাবে না। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার সন্তানকে ফেরত চাই।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাই রায়হান কবির বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে তার ভাইসহ অন্যরা বৈধভাবে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়েই রাশিয়ায় গেছেন। সরকারি নিয়ম মেনে বিদেশে পাঠানোর পরও তারা কীভাবে প্রতারণার শিকার হলেন—সেটি তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, তার কাছে এমন এক হাজার বাংলাদেশীর তথ্য রয়েছে, যারা বৈধ কাগজপত্রে রাশিয়ায় গিয়েও বর্তমানে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন। যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে কর্মীদের পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোর অস্তিত্বই রাশিয়ায় নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া আরিফ হোসেনের বাবা স্বপন পাটওয়ারী বলেন, ছেলে বৈধভাবে উপার্জন করে পরিবার চালাবে এবং দেশে রেমিট্যান্স পাঠাবে—এ আশায় তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এখন ছেলের জীবন নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে বলে জানান তিনি।

চাঁদপুরের বাসিন্দা কামাল হোসেনের আত্মীয় জলিল খান বলেন, এজেন্সি বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছিল। কাউকে নির্মাণ ভিসা, কাউকে ফ্যাক্টরি ভিসায় পাঠানো হলেও রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সর্বশেষ ১২ মে তার আত্মীয় ফোনে জানিয়েছিলেন যে, কাজের কথা বলে তাদের ধরে নিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

নাজমুল আলমের বড় ভাই মো. লিয়াদ আলী বলেন, কয়েকদিন ধরে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি পাওয়া একটি ভয়েস বার্তায় আটকে পড়াদের একজন উদ্ধার চেয়ে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হয়তো তাদের মরদেহও দেশে ফিরবে না।

মানববন্ধন থেকে রাশিয়ায় আটকে থাকা বাংলাদেশীদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার দূতাবাসের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেন স্বজনরা।