শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আগামী বছর জানুয়ারি থেকে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কোডিং শেখানো হবে। খেলতে খেলতে ৬-১৫ বছরের শিশুরা বয়স অনুযায়ী কোডিং, ডিজাইন ও অ্যানিমেশন শিখবে। এভাবেই আমাদের বড় বড় প্রযুক্তিবিদ সৃষ্টি হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত ১৪ বছরে বাংলাদেশ শুধু এগিয়েছে। এমন কোনো খাত নেই যেখানে পিছিয়েছে। আমরা চাই না আমাদের সামনে এগোনোর চেষ্টা আবার থেমে যাক।
গতকাল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) মতবিনিময় এবং উদ্ভাবন ও শুদ্ধাচার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এর আগে তিনি যবিপ্রবিতে ১০ তলার স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবন উদ্বোধন করেন। এর পরপরই যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ ‘যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবন’
উদ্বোধন করেন। স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষামন্ত্রী একটি কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বিজ্ঞান গবেষণাকে বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের জায়গায় নিয়ে যাওয়া খুব জরুরি। গবেষণায় একাডেমিক-ইন্ডাস্ট্রির মেলবন্ধন ঘটাতে হবে। বাণিজ্যিকীকরণের জগতের সঙ্গে বিজ্ঞানীর চিন্তা জগতের সেতুবন্ধন তৈরি করতে হবে। বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইন্ডাস্ট্রির জন্য উদ্ভাবন করে এবং সেখান থেকেই তাদের অধিকাংশ ফান্ড আসে। এ বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের কার্যক্রম অনেক বেশি সম্ভব। কারণ বিজ্ঞান ও গবেষণায় আপনারা এগিয়ে আছেন। এখানে বড় ধরনের ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে স্টার্ট-আপ শুরু করে সেখান থেকে বড় সাপোর্ট পাওয়া সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতার বিশ্বে যোগ্যতাই হচ্ছে টিকে থাকার মূলমন্ত্র। এজন্য যোগ্য হতে হবে। আমার মনে হয়েছে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই যোগ্যতা রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সব ক্ষেত্রেই আমাদের যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। আজ সকালে মাত্র ৩ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে যশোর এসেছি। এটি একসময় অকল্পনীয় ছিল। এটি সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বের কারণে। আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা লাগছে না। এখানে যারা সবজি কিংবা ফুল উৎপাদন করছেন, তাদের আর ফেরির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা লাগবে না, কষ্টও হচ্ছে না।
ডা. দীপু মনি আরো বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো কিছু ভূমি প্রয়োজন। আমাদের কাছে আবেদন দিলে আরো যতখানি জমি দেয়া সম্ভব, সেটি যেন দ্রুত পাওয়া যায় তার ব্যবস্থা করব। যবিপ্রবিতে ক্রিকেট গ্রাউন্ড, টেনিস কোর্ট, একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামের স্থাপনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও যথাযথ স্থানে কথা বলারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি বলেন, ‘তোমাদের রাজনীতি সচেতন হবে, সক্রিয় হতে হবে। তবে রাজনীতি একটি ইতিবাচক বিষয়। এর মধ্যে নেতিবাচকতা যেন না আসে। মানুষের মন জয় করে রাজনীতি করতে হবে। এর জন্য ইতিবাচক রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও যবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল মজিদ, ডিনস কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গালিব, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. সেলিনা আক্তার, কর্মকর্তাদের পক্ষে উপরেজিস্ট্রার মোহাম্মদ এমদাদুল হক, কর্মচারীদের পক্ষে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সরদার ফরিদ আহমেদ, যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সোহেল রানা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন যবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যবিপ্রবির ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মুনিবুর রহমান ও একই বিভাগের প্রভাষক তুসমিত মেহরুবা আঁকা।
অনুষ্ঠানে উদ্ভাবনে অবদান রাখায় দুজন শিক্ষক ও শুদ্ধাচারে দুই শিক্ষক ও চারজন কর্মকর্তা-কমচারীকে পুরস্কার দেয়া হয়।










