চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলাকালে যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার দুই বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এ কারণে বিদ্যালয় দুটির প্রধান শিক্ষক, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ পাঁচ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে ভবিষ্যতে কোনো দায়িত্ব পালন করতে না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। সম্প্রতি এ নির্দেশনা দিয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কালিয়া প্যারী শংকর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম এবং ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দ্বিপ্তী রানী বৈরাগী, কালিয়া উপজেলার বাঐ সোনা কামশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক অমলেন্দু হিরা, উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার এসএম শরাফত হোসেন এবং অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে পাঠানো গত ৩১ অক্টোবরের চিঠিতে বলা হয়,  চলতি বছর অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলাকালীন নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলাধীন কালিয়া প্যারী শংকর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং বাঐ সোনা কামশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত প্রতিবেদনে পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা অনিয়মে যুক্ত ছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়।

 এ কারণে ভবিষ্যতে তাদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা পরিচালনাসংক্রান্ত দায়িত্ব না দেয়ার অনুরোধ করা হলো।

উল্লেখ্য, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার প্যারী শংকর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার সময় বাংলা দ্বিতীয় পত্রের বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র (এমসিকিউ) বিতরণ করা হয়। এছাড়া অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বাঐ সোনা কামশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত দিনে অনুষ্ঠিতব্য বাংলা (আবশ্যিক) দ্বিতীয়পত্রের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষা স্থগিত করে। পরে পরীক্ষাটি নেয়া হয়।

এ ব্যাপারে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান হাবীব জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করব। তবে অনেক আগেই আমরা বোর্ডের সমন্বয় সভায় তাদের আর দায়িত্বে রাখা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।