খুলনা বিভাগে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে।
এতে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।
বিশেষ করে বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর ও কুষ্টিয়ায় এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী।
এরই মধ্যে বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা ৭০০ ও শনাক্তের সংখ্যা ৩৮ হাজার ছাড়িয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে কভিডে আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ সময় শনাক্ত হয়েছে ৫৯৯ জন, যা সংক্রমণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
এ অবস্থায় পুরো জেলায় আজ থেকে সাতদিনের লকডাউন কার্যকর হচ্ছে।
গতকাল দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাশেদা বলেন, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৮৯ জন।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০১।
আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২ হাজার ৭৩৬ জন।
তিনি আরো বলেন, বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে খুলনা জেলা।
খুলনায় এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ২৫৭ জন।
মারা গেছেন ১৯২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৬০৫ জন।
এদিকে খুলনা জেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আজ থেকে জেলাব্যাপী এক সপ্তাহের নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ৪ জুন থেকে নগরের সদর, সোনাডাঙ্গা ও খালিশপুর থানা এবং রূপসা উপজেলায় এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ওই বিধিনিষেধ শেষ হয় বৃহস্পতিবার। এছাড়া পাইকগাছা পৌরসভা ও ফুলতলা উপজেলায় চলছে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ। এরই মধ্যে গতকাল জেলাজুড়ে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিধিনিষেধ অনুযায়ী সকাল ৯টার আগে ও বিকাল ৫টার পর কোনো দোকান, শপিংমল, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি খোলা রাখা যাবে না।
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হয়ে অযথা ঘোরাঘুরি করতে পারবে না।
ইজিবাইক চলবে অর্ধেক এবং অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নিয়ে।
কাঁচাবাজার ও ওষুধের দোকান এ বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে।
শুক্রবার খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে তার সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।









