প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নির্মাণ করা বেশ কয়েকটি ঘরে দেখা দিয়েছে ফাটল। গত ২৩ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এসব ঘর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উপজেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উদ্বোধনের পরই উপজেলা পরিষদের হলরুমে সুবিধাভোগী ১১৫টি পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয় এসব ঘর ও জমির দলিল।

কিন্তু দুই মাসেরও কম সময়ে এসব ঘরের অনেকটাই দেখা দিয়েছে ফাটলসহ নানা সমস্যা। কিছু ঘরের আস্তর উঠে গেছে উদ্বোধনের কিছুদিন পরই। গত ১২ মার্চ ছয়টি ঘরের দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল দেখা দেয়। এ অবস্থায় যেকেনো মুহূর্তে তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় ভুগছেন বাসিন্দারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম দিকে রায়পুর উপজেলায় প্রতিটি ঘর নির্মাণে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে মোট ২৫টি ঘর নির্মাণের বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (্ইউএনও) সাবরীন চৌধুরীকে। তদারকির দায়িত্ব পান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দিলীপ দে।

প্রকল্পের আওতায় উপজেলার দক্ষিণ চরবংশি ইউনিয়নের হাজিমারা স্লুইসগেট মেঘনা নদীসংলগ্ন হাজিমারা এলাকায় এ ২৫টি ঘর নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে একই প্রকল্পের অধীনে নির্মাণ কাজ চলছে আরো ২৫টি ঘরের।

প্রকল্পের অধীনে নির্মাণকাজ পাওয়া রাজমিস্ত্রি সুভাশ ও মোবারক জানান, দেড় মাস সময় নিয়ে প্রায় ৬৫ জন শ্রমিক ঘরগুলো নির্মাণ করেছেন। সময় ও বাজেট স্বল্পতার কারণে তারা ঠিকভাবে কাজ শেষ করতে পারেননি। ফলে মাটি নরম থাকায় ঘরগুলোর দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটল আরো বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের। 

প্রকল্পের ২০ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন চরলক্ষী গ্রামের মোহাম্মদ আলী ফকির। ৭ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন আয়শা খাতুন। দুজনেই নিজেদের ঘরের ফাটল ও আস্তর উঠে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

রহিম মিয়া ও সাজেদা বেগম জানান, তারা কিছুদিন আগে ঘরে বসবাস শুরু করেন। ঘরে ওঠার পরই পিলারসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পান। ৮ নম্বর ঘরের বরাদ্দপ্রাপ্ত শাহজাহান মিয়া (৭০) জানান, তার ঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। মিস্ত্রিরা নিম্নমানের ঘর নির্মাণ করেছে।

দক্ষিণ চরবংশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরাজির দাবি, কম বরাদ্দ পাওয়ায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের ইরি ক্ষেতে পানি দেয়ায় ঘরে ফাটল ও দেয়াল দেবে গেছে। তবে এসব সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, রায়পুরে চরকাছিয়া গ্রামের ঘরগুলো পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় মেরামতের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি। সর্বোচ্চভাবে নজরে রাখছি।