সিলেট সিটির সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে এবার লড়ছেন। এলাকার প্রধান সমস্যা ও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নূর আহমদ
নির্বাচিত হলে পর্যটন শিল্প বিকাশে পরিকল্পনা কী?
পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে অনুন্নত রাস্তাঘাট। আমার বিবেচনায় জাফলং, বিছনাকান্দি ও সাদাপাথর সংযোগকারী রাস্তাগুলোকে প্রশস্ত ও মজবুত করা জরুরি। পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় আধুনিক মাল্টি-লেভেল পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে যানজট না হয়। সিলেট শহর থেকে সরাসরি পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় যাওয়ার জন্য বিশেষ ট্যুরিস্ট বাস সার্ভিস চালু করা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট না করে পর্যটন বিকাশে অবদান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে আমার। এছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিটি স্পটে আধুনিক রিসাইক্লিং বিন স্থাপন করা হবে। পাহাড় ও নদী রক্ষা করে ইকো-রিসোর্ট নির্মাণের জন্য বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে।
এ অঞ্চলের প্রধান সমস্যা কর্মসংস্থান। নির্বাচিত হলে বন্ধ থাকা পাথর কোয়ারিগুলো চালুর ব্যাপারে আপনার পরিকল্পনা কী?
দেখুন, একটি নির্বাচিত সরকার যখন জনগণের রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তাদের মূল লক্ষ্যই থাকে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং রাষ্ট্রীয় নীতিমালা অনুসরণ করে আমরা সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন পুনরায় চালু করব। এজন্য আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরি করব, যেখানে সরকারের রাজস্ব বাড়বে, পরিবেশও ঠিক থাকবে, আবার হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানও হবে।
গোয়াইনঘাট-কোম্পানিগঞ্জ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
গত ২০ বছরে এ এলাকায় দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমি এলাকা ঘুরে দেখেছি, এখানকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই নাজুক, যেন একেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। ভালো কোনো ব্রিজ নেই, কালভার্ট নেই, এমনকি সুপেয় পানির অভাবও প্রকট। এত বড় জনপদ অথচ ভালো মানের স্কুল, মসজিদ বা বাজার গড়ে ওঠেনি। মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য একটি উন্নত মেডিকেল কেয়ার পর্যন্ত নেই। নির্বাচিত হলে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে আমার অধিকার আদায়ের জন্য যা যা করণীয়, সবই করব।
নির্বাচনী পরিবেশ ও কেন্দ্র নিয়ে আপনার অভিযোগ ছিল, এ ব্যাপারে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে যেখানে ভোট কম বা আমাদের জনসমর্থন বেশি, সেসব এলাকায় ভোট কেন্দ্রগুলো ৫-৭ কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্যই হলো সাধারণ ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে যেতে না পারেন। দূরত্বের কারণে তারা নিরুৎসাহিত হবেন, আর এটাই একটি বিশেষ পক্ষ চাইছে।
জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?
আমি শতভাগ আশাবাদী। মানুষ পরিবর্তন চায়, উন্নয়ন চায়। যখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, তখনই সিলেটে সুষম উন্নয়ন হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে এ আসনের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। আমি তার প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের দাবিগুলো পূরণ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।













