নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে সিরাজগঞ্জে বেড়েছে জ্বরের প্রকোপ। সাধারণত জ্বরের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে চিকিৎসকরা প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সিরাজগঞ্জের ফার্মেসিগুলোতে সংকট দেখা দিয়েছে এসব ওষুধের। কোনো ফার্মেসিতে ওষুধ পাওয়া গেলেও ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। বিক্রেতারা বলছেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। কোম্পানি সংশ্লিষ্টদের দাবি, চাহিদা বৃদ্ধি ও উৎপাদন না থাকায় ওষুধ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পিপুলবাড়িয়ার শাহ আলম বলেন, জ্বরের ওষুধ কিনতে এসে শুনি দোকানে জ্বরের ওষুধই নেই। পরে ১০ টাকার এক পাতা ট্যাবলেট ২০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে।
কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, এ মৌসুমে সাধারণত জ্বরের প্রকোপ বেশি হয়। ডাক্তারের কাছে গেলে তারা আমাদের এসব ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু কিনতে গেলে তা আর পাওয়া যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় কেউ ওষুধের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করল কিনা সেটা প্রশাসনকে খতিয়ে দেখার দাবিও জানান তিনি।
এসএস সড়কের পপুলার মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী হেলাল উদ্দিন বলেন, এক সপ্তাহ আগে প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ সরবরাহ শূন্যের কোটায় নেমে আসে। ফলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। এখনো চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনটা কেন হচ্ছে তা জানি না। পাশাপাশি প্যারাসিটামল সিরাপের সংকটও রয়েছে।
সিটি মেডিকেল হলের মালিক আব্দুল আলীম বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে জ্বরের ওষুধ সংকট তৈরি হয়েছে। কোম্পানি থেকে সরবরাহ কম থাকায় প্রতিনিধিরা আমাদের চাহিদা মোতাবেক ওষুধ দিতে পারছেন না বলে তারা জানিয়েছেন।
ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকোর সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের ব্যবস্থাপক নির্মল বিশ্বাস বলেন, জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি, করোনার কারণে উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বৃদ্ধি এবং কাঁচামাল সংকটের কারণে ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। নাপা সিরাপের কিছুটা সংকট রয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যে বাজারে ওষুধগুলোর সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। আমরা ওষুধের দাম বাড়াইনি। কেউ দাম বেশি নিলে তার দায় আমরা নেব না।
জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে করোনা মহামারীর এ সংকট মুহূর্তে যদি কোনো ফার্মেসি মালিক সংকট তৈরি করে বা কেউ দাম বেশি নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ওষুধের সংকট তৈরি করে দাম বেশি নিচ্ছে, এমন অভিযোগ পেলে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।










