ছোটবেলা থেকে বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য হয়ে দেশের সেবা করার স্বপ্ন ছিল কৃষক পরিবারের মেয়ে তমা রানী দেবনাথের। এজন্য পড়াশোনায় নিজেকে যোগ্য করে তুলছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায় দারিদ্র্য। তার স্বপ্নের কথা শুনে পরিচিতজনরা বলতেন, পুলিশে চাকরি পাওয়া অত সহজ না, তোমার যতই যোগ্যতা কিংবা মেধা থাকুক, বড় অংকের টাকা ছাড়া চাকরি হবে না। পুলিশে চাকরি করতে হলে বাড়িঘর বিক্রি করতে হবে। কিন্তু সেসব কথা আজ মিথ্যা প্রমাণিত। পূরণ হয়েছে তমার পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন।

মাত্র ১০০ টাকায় সেই কৃষক পরিবারের কন্যা তমা রানীর চাকরি হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশে। এমন স্বপ্ন পূরণে আবেগে আপ্লুত তিনি। এজন্য লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তমা। এ সময় পাশে থাকা কৃষক বাবাকে জড়িয়ে ধরে গর্ব করে বলেন, আমার বাবার জন্যেই আজ আমি পুলিশে নিয়োগ পেলাম। মেয়ের এমন অর্জনে আবেগাল্পুত হয়ে পড়েন গরিব কৃষক পিতা কৃষ্ণ লাল দেবনাথ। কান্নামিশ্রিত কণ্ঠে বলেন, আমি স্বপ্নেও ভাবিনি ঘুষ ছাড়াই মাত্র ১০০ টাকা আর যোগ্যতার মূল্যায়নে আমার মেয়ের পুলিশে চাকরি হবে। আমি পুলিশ সুপার স্যারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

জানা যায়, গত ২৪ নভেম্বর রাতে পুলিশ লাইনসে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পরীক্ষা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে ৩৬ জন উত্তীর্ণ হয়। পরে নির্বাচিতদের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে ব্রিফিং অনুষ্ঠানে এভাবেই নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন মাত্র ১০০ টাকায় পুলিশে চাকরি পাওয়া লক্ষ্মীপুরের তরুণ-তরুণীরা। এ সময় তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে মিষ্টি মুখ ও ফুলেল সংবর্ধনা দেন পুলিশ সুপার।

বিনা টাকায় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেললেন লক্ষ্মীপুর শিশু ও পরিবার কেন্দ্রে বড় হওয়া মো. নবীর হোসেন। তিনি জানান, আমি জীবনেও ভাবিনি টাকা কিংবা তদবির ছাড়া পুলিশে চাকরি হয়। আমাদের এসপি স্যার বলেছিলেন, কেবল যোগ্যতার ভিত্তিতেই আমাদের চাকরি হবে। আমরা যেন দালালদের খপ্পরে না পড়ি। আজ সেটি প্রমাণ হলো।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরির আবেদন করতে ১০০ টাকা জমা দিতে হয়। কোনো ধরনের ঘুষ-বাণিজ্য ছাড়াই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পাঁচ নারীসহ ও ৩৬ জন পুরুষ পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ প্রধানের নির্দেশে যে রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি, তা সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে করা হয়েছে।