পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে নির্যাতনে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের বহিষ্কৃত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ৯ নভেম্বর আটক করা হয়। ওই সময় কিছু ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এসব ভিডিওতে দেখা যায়, আকবরকে বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন স্থানীয় কয়েকজন যুবক। সেখানে রায়হানকে হত্যা সম্পর্কিত তাদের একটি প্রশ্নের জবাবে আকবরকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি খুনি না, ইচ্ছা করে আমি একা মারিনি। ইচ্ছা করে একা মারিনি। মাইর দিছিল পাঁচ ছয়জন। এজন্য মরে গেছে ভাই।’

জনতার কাছে এমন স্বীকারোক্তি দিলেও রিমান্ড শেষে আদালতে এসে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হননি আকবর হোসেন ভূঁইয়া। গতকাল আকবরের রিমান্ড শেষ হওয়ায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা পুনরায় তার রিমান্ড না চওয়ায় আদালত আকবরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল কাশেম।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে আকবরকে আবার রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এর আগে এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য এএসআই আশেক এলাহি, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস এবং হারুনুর রশীদকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় পিবিআই। তবে রিমান্ড শেষে তারাও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

রায়হানের মা সালমা বেগম অবশ্য প্রথম থেকেই পিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। তার দাবি, পিবিআই পুলিশেরই একটি সংস্থা। তাদের দ্বারা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত সম্ভব নয়। এজন্য এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে আসছেন তিনি।

৯ নভেম্বর আকবরকে গ্রেফতারের পর সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন জানিয়েছিলেন, আকবর হোসেনকে ৯ নভেম্বর কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী ডোনা এলাকা থেকে জেলা পুলিশের একটি দল গ্রেফতার করে। ভারতে পালানোর সময় তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তবে সীমান্তবর্তী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আকবরকে কানাইঘাটের ডোনা সীমান্তের ওপারে খাসিয়াপল্লীর বাসিন্দারা আটক করে বাংলাদেশে পাঠালে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।