যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় বেশির ভাগ ওষুধ শূন্য হয়েছে। সরকারের বিনামূল্যের ওষুধ না পেয়ে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের অতিরিক্ত দামে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে ওষুধ। অনেকে সামর্থ্য না থাকায় ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকছে। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে ওষুধ না পেয়ে ভারাক্রান্ত মনে ক্ষোভের সঙ্গে রমজান আলী (৬২) নামের এক রোগী বলছিলেন, হায়রে সরকারি হাসপাতাল, গরিবের ওষুধগুলো লুট হয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে তার সঙ্গে আলাপ হয়। বয়স্ক এ ব্যক্তির বাড়ি যশোর সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আর বলেন না বাবা, ফার্মেসির সামনে লম্বা লাইনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও ওষুধ পেলাম না। স্লিপ জমা দেয়ার পর ওষুধ বিতরণকারী জানিয়েছেন গ্যাসের ওষুধ নেই। ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে বাসায় ফিরছি। বাইরে থেকে ওষুধ কেনার মতো সামর্থ্য নেই। তাই মনের দুঃখে নিজের সঙ্গেই বকছিলাম।’

১৫ মার্চ হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচতলায় বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেখাতে এসেছিলেন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ফরিদা বেগম (৪৮)। তার বাড়ি হৈবতপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে। ডাক্তার দেখিয়েছেন ঠিকই কিন্তু চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে সব বাইরের ওষুধ লিখেছেন। বিনামূল্যের ওষুধ চাওয়ায় চিকিৎসক বলেছেন ওষুধ নেই, কষ্ট হলেও বাইরে থেকে কিনে খাবেন। নতুবা ডায়াবেটিস বেড়ে যাবে।

২১ মার্চ শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন চুড়ামনকাটি গ্রামের পিকুল হোসেন (২৫)। তার বাবা আব্দুল কাদের জানান, রোগীর চিকিৎসায় প্রায় ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। বিনামূল্যের তেমন কোনো ওষুধ দেয়া হয়নি।

সরকারিভাবে এ হাসপাতালে ৮৪ প্রকারের ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে ইডিসিএল ৪৪ প্রকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় অর্থে টেন্ডারের মাধ্যমে অবশিষ্ট ৪০ প্রকার ওষুধ কর্তৃপক্ষ কেনে। কিন্তু বর্তমান সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ নেই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের সার্জারি, মেডিসিন, হূদরোগ, গাইনি, অর্থোপেডিকস, গাইনি, শিশু, পেইং, লেবার ওয়ার্ডের একাধিক রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, এসব ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল থেকে যৎসামান্য ওষুধ দেয়া হয়। প্রায় ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. দিপাঞ্জন জানান, কয়েক প্রকারের ওষুধ শূন্য হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ পেতে ইডিসিএলে যোগাযোগ করা হয়েছে। শিগগির ওষুধের সংকট কেটে যাবে। তিনি আরো জানান, চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ কম সরবরাহ পাওয়ায় মাঝেমধ্যে সংকটের মুখোমুখি হতে হয়।