নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ত্রিবর্দী মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনের একটি প্যাকেজিং কারখানায় ভয়াবহ আগুনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল সকাল ৭টা ২০ মিনিটে সোনারগাঁ প্যাকেজিং অ্যান্ড ফয়েল কারখানার উত্তর-পশ্চিম কোনায় আগুনের সূত্রপাত। প্রায় ৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ ইউনিট এবং মেঘনা ইকোনমিক জোনের ১১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের বিএম কনটেইনারের পর দ্বিতীয়বারের মতো রিমোর্ট কন্ট্রোলে নিয়ন্ত্রিত রোবটিক ফায়ার ব্যবহার করে। আগুনে কারখানার ভেতর থাকা বিপুল পরিমাণ তৈরি কার্টন, কাগজের রোল, সিড, ফয়েল পেপার, মেশিনারিজসহ স্টিল স্ট্রাকচারে নির্মিত তিনতলা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালের শিফটে ফ্যাক্টরিতে অনেক শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ মিলের উত্তর-পশ্চিম কোনায় ধোঁয়া দেখা যায়। শ্রমিকরা চিত্কার-চেঁচামেচি শুরু করলে অন্য শ্রমিকরা দ্রুত বের হয়ে আসেন।

মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনের সিকিউরিটি চিফ ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবিদ জানান, সকালে আগুনের ধোঁয়া দেখার পরপরই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেঘনা গ্রুপের নিজস্ব ১১টি ইউনিট এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। একই সঙ্গে আগুন লাগার বিষয়টি মালিকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ইকোনমিক জোনের উল্টো পাশে অবস্থিত সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত এসে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে। কিন্তু মহাসড়কে যানজট থাকায় ফায়ার সার্ভিসের অন্য ইউনিটগুলো আসতে কিছুটা সময় নেয়।

মেঘনা গ্রুপ অব কোম্পানির পরিচালক (টেকনিক্যাল) কর্তিক চন্দ্র দাস জানান, ইকোনমিক জোনের ভেতর স্টিল স্ট্রাকচারে তিনতলাবিশিষ্ট  সোনারগাঁ প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং কারখানার প্রতিটি ফ্লোর ৮০ হাজার ৭০০ স্কয়ার ফুট। সে হিসেবে তিন তলার প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার স্কয়ার ফুটের ওই ভবনে বিপুল পরিমাণ তৈরি কার্টন, ফয়েল পেপার, শিট, কাগজের রোলসহ বিভিন্ন সামগ্রী ছিল। এসবের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ক্ষতির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ভেতরে বিপুল পরিমাণ ফয়েল পেপার, সিড, কাগজের রোল মজুদ রয়েছে। কাগজের আগুন নিভতে কিছুটা সময় নেয়।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট তিন-চার মিনিটের মধ্যে আগুন নির্বাপণের কাজ শুরু করে। এ সময়  মেঘনা গ্রুপের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিংয়ের ১১টি ইউনিট যোগ দেয়। পরে নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ, মণ্ডলপাড়া, বন্দর, ঢাকা সদরদপ্তরের মোট ১৩টি ইউনিট এবং মেঘনা গ্রুপের নিজস্ব ১১টি ইউনিট একযোগে কাজ করে প্রায় ৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বিএম ডিপোর পর দ্বিতীয়বারের মতো রিমোট কন্ট্রোলে পরিচালিত রোবটিক ফায়ার প্যাকেজিং ফ্যাক্টরিতে ব্যবহার করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট নাকি অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা তদন্ত না করে বলা যাবে না।