অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে বৈষম্য থাকবে না এটাই ছিল জনগণের বড় আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু অভ্যুত্থানের পরপরই আমরা দেখতে শুরু করলাম যে নানা পরিসরে নারীদের ব্যাপারে কী ধরনের বৈষম্য হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের প্রতি নানা ধরনের আক্রমণ-সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। সর্বশেষ যখন জুলাই সনদ প্রণয়নের কাজ শুরু হয়, সে সময় আমাদের দেখার ছিল যে সংসদে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর প্রার্থিতা কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে এবং সংরক্ষিত আসনে কতটা সমতা বজায় রাখা হবে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত প্রতিফলন দেখা যায়নি।

এ প্রেক্ষাপটে নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়। আমরা জুলাই সনদের প্রথম খসড়া প্রণয়নের সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে ঐকমত্য কমিশন ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নানাভাবে দরকষাকষি করেছি এবং তাদের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেছি।

আমাদের দাবি ছিল যে সংসদে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন থাকতে হবে। এছাড়া ১০ সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন হবে। এ দুটো ছিল আমাদের দাবি। কিন্তু এর কাছাকাছিও সেটা করা হয়নি। ন্যূনতম মনোনয়ন রাখা হয়েছে ৫ শতাংশ। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো এবারই প্রথম বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সংখ্যক নারীর মনোনয়ন দেখা যাচ্ছে। এটি অবশ্যই শঙ্কার বিষয়।